।। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আভাঁ গার্দ ।।
সুশোভন রায়চৌধুরী
শিরোনাম পড়ে অনেকেই বোধ হয় একটু ঘাবড়ে যেতে পারেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা! এও কি সম্ভব? আসুন একটু তলিয়ে দেখি। ফরাসি শব্দ আভাঁ গার্দ, ইংরেজিতে অ্যান্টিএস্টাব্লিশমেন্টের বাংলা প্রতিশব্দ হলো ' প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা '? যে ' প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার ' প্রতিষ্ঠান কোনো ইনস্টিটিউশন, সংগঠন বা সংস্থা নয়, নিছক শিল্প ও সাহিত্যের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা ( তত্ত্ব / ব্যাকরণ) ভেঙে নতুন ফর্মের প্রয়োগ? একটি পত্রিকাকে ' লিটল ম্যাগাজিন ' পরিভাষার শ্রেণিভুক্ত করতে গেলে তো আমরা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট দেখবো? নাকি দেখবো সেই নির্দিষ্ট পত্রিকা প্রকাশকের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুদ্ধদেব বসু যে ' পোয়েট্রি ' কে লিটল ম্যাগাজিন সম্বোধন করেছেন তার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যে কোনোদিনই small/ little ছিল না তা ২০১৭ তেই প্রমাণ সহ দেখিয়েছেন এরিক বালসন, তাঁর ' লিটল ম্যাগাজিন ওয়ার্ল্ড ফর্ম ' বইতে। ফলে লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের ক্ষেত্রে পুঁজি যে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো ফ্যাক্টর নয় তা আমরা খুব ভালো করেই বুঝে গেছি।
সাল ১৯৭৭। স্পেইনের সংস্কৃতি মন্ত্রালয় ঠিক করলেন, তাঁদের প্রকাশিত সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পত্রিকাটিকে ঢেলে সাজাবেন, যাকে বলে পুরো খোলনোলচে বদলে ফেলা। ১৯৫২ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রালয় কর্তৃক প্রকাশিত ' পোয়েসিয়া এস্পানোলা ' নাম বদলে ' পোয়েসিয়া হিসপানিকা' র তখন চাই তরুণ রক্ত। অগত্যা স্পেইনের তৎকালীন সংস্কৃতি মন্ত্রী পায়ো ক্যাবানিলাসের সবুজ সংকেতে, পোয়েসিয়ার দায়িত্বে থাকা জোসে গার্সিয়া নিয়েতোকে সরিয়ে তৈরি হলো এক নতুন পরিচালকমন্ডলী। ইতিহাসবিদ সান্তিয়াগো আমন ও স্থাপত্যবিদ আন্তোনিও ফারনান্ডেজ আলবা- র প্ররোচনায় মন্ত্রী ক্যাবানিলাস নিযুক্ত করলেন মাত্র ত্রিশ বছর বয়সি কবি ও প্রকাশক গনজেলো আরমেরোকে ' পোয়েসিয়ার ' নব নির্মিত প্রকল্পের দায়িত্বে। আরমেরো নিযুক্ত করলেন তাঁর ডিজাইনার বন্ধু দিয়েগো লারাকে। তৈরি হলো সম্পাদকমণ্ডলী যাতে রয়েছেন ইতিহাসবিদ সান্তিয়াগো আমন, জোসে মিগুয়েল উল্লান, মারিও হারনান্দেজ ও জোয়াকিন পুইগ ডি লা বেলাকাসা। যদিও নতুন রূপে পোয়েসিয়া প্রকাশ পাওয়ার মাস খানেক আগেই ভেঙে দেওয়া হয় নব নির্মিত সম্পাদকীয় কমিটিকে। অগত্যা পত্রিকার সার্বিক দায়িত্বে তখন গনজালো আরমেরো।
নতুন রূপে যখন প্রকাশ পাবে তখন পত্রিকার নাম হবে 'Poesia : Revista ilustrada de informacion poetica'যা প্রতি নিয়ত নস্যাৎ করতে থাকবে তার পূর্বে প্রকাশিত সংখ্যার অ্যাকাডেমিক লেখাপত্রের ধারাকে, অস্বীকার করবে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা। কারণ যা আগে কখনো হয়নি সেটাই হতে চলেছে --- পত্রিকার পাতায় প্রকাশ পেতে চলেছে ফোটোগ্রাফি, সংগীত, প্রবন্ধ, চারুকলা ও স্থাপত্যশিল্পও।
মার্চ ১৯৭৮ এ প্রকাশিত হলো আভাঁ গার্দে উদ্বুদ্ধ ' পোয়েসিয়া' র নবপর্যায়ের প্রথম সংখ্যা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আরমেরোকে। কন্টেন্ট প্রচ্ছদ ও অলংকরণের দাপটে পোয়েসিয়া করে নিয়েছে স্প্যানিশ রিভিস্তার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী জায়গা, হয়ে উঠেছে কিংবদন্তী। ( স্প্যানিশ ভাষায় লিটল ম্যাগাজিনকে রিভিস্তা বলা হয়) আরমেরোর বাল্যবন্ধু দিয়েগো লারা প্রথমে নিযুক্ত হন গ্রাফিক ডিরেক্টর পদে এবং পরবর্তীতে পত্রিকার ডেপুটি ডিরেক্টর, অর্থাৎ সহযোগী সম্পাদক। যে ষোলোটি সংখ্যাব্যাপী তিনি পোয়েসিয়াতে নিযুক্ত ছিলেন প্রচ্ছদ হোক, অলংকরণ বা টাইপ সেটিং সবেতেই করে গিয়েছেন নিরন্তর পরীক্ষামূলক কাজ, আর পাঠক পেয়েছেন আভাঁ গার্দের ঝলক। এই নবপর্যায়ে প্রকাশিত প্রথম সংখ্যা থেকে শুরু করে পরবর্তী পনেরোটি সংখ্যা যদি খুঁটিয়ে দেখা হয়, বুঝতে অসুবিধে হয় না যে কোলাজ ছিল দিয়েগো লারার অন্যতম প্রিয় প্রকাশ মাধ্যম। প্রথম সংখ্যাটিতে যেমন দেখা গিয়েছে প্রতিষ্ঠিত স্প্যানিশ লেখকদের তেমনই উঠে আসছে এমন কিছু নাম যাঁরা সবে মাত্র তাঁদের লেখক সত্তার আত্মপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। একাধারে যেমন প্রকাশিত হচ্ছে ভিসেন্তি আলেকজান্দ্রে কিংবা ফ্রানসিস্কো পিনোর লেখা তেমনই দেখা যাচ্ছে নবাগত রাফায়েল স্যাঞ্চেজ ফারলোসিও কিংবা কুর্ট স্কিটসের নামও। মজার বিষয়, নবপর্যায়ে প্রকাশিত ' পোয়েসিয়ার ' ইতিহাসে সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছিল মাত্র দুটি আর দুটি সম্পাদকীয়ই প্রকাশিত হয়েছে নবপর্যায়ের প্রথম সংখ্যায়। প্রথমটি লেখেন সম্পাদক গনজালো আরমেরো। সম্পাদকীয়তে জোর দেন কবিতা নামক শিল্প মাধ্যমের ইল্যুশনের প্রতি, কবিতার ঐশ্বরিক আধুনিকতা ও অপ্রয়োজনীয়তার প্রতি। তিনি লেখেন ' কবিতার মধ্যেই অন্তর্নিহিত আছে মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। '
দ্বিতীয় সম্পাদকীয় আরমেরোর নিজের মতে ছিল ' চমকপ্রদ ' যে লেখার বীজ তাঁর মাথায় অঙ্কুরিত হয় মাদ্রিদের রাস্ত্রো অঞ্চলে। ৩০ নভেম্বর, ২০০৫ সালে মাদ্রিদের আর্কিটেকচার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে আরমেরো তাঁর বক্তৃতায় বলেন ---
' প্রথম সংখ্যাটি তখনও প্রকাশ হয়নি। প্রকাশের দিন কয়েক আগে গিয়েছিলুম মাদ্রিদের রাস্ত্রো অঞ্চলে, প্লাজা ডি লারা ডেল রে - তে। পুরো শপিং কম্পলেক্সের বেশির ভাগটাই দখল করে রেখেছে সেকেন্ড হ্যান্ড জামাকাপড়ের দোকান। তারই মাঝে এক ছোট্টো বইঘর। চোখে পড়লো ক্যাটালান পেনম্যানের ক্যালিগ্রাফির অ্যালবাম, নাম ' Ramon Stirling from the end of the 19th Century ' অসাধারণ বই! তারই পাতার মাঝে পেলুম এক ক্যালিগ্রাফিক প্রিন্ট। দেখে মনে হলো, আরে! আমি তো ঠিক এটাই বলতে চাইছি! ব্যাস, আর দেরি কেন, ছেপে দিলুম পত্রিকার পাতায়... '
ক্যালিগ্রাফিটিতে লেখা ছিল, " After the gift of Speech there is nothing much precious than writing ; for it is a second word ; it is the material interpreter of our thoughts, it is an astonishing vehicle that transports our ideas from the areas of one hemisphere to those of the other. By it, all the nations of the globe have been brought into contact ; by it we know what happened in the remotest centuries, and by it finally posterity will know the sublime action of the heroes of every age; the great discoveries of every era and the universal history of everything created. "
স্মৃতিমেদুর আরমেরো বলতে থাকেন, ' সত্যি কথা বলতে পোয়েসিয়ার বিভিন্ন সংখ্যায় কী করা যায় সেই ভাবনাগুলো আমাদের মাথায় আসতো ভোর রাতে, মাদ্রিদের কোনো বারে বসে। প্রথম সংখ্যাটির কথাই ধরুন, ওটার মধ্যে কনস্ট্রাকটিভিস্ট ও ডাডা পাবলিকেশন স্টাইলের এক মিশ্রণ আনতে চেয়েছিলুম আর ওটাই একমাত্র সংখ্যা যা ছাপতে যাওয়ার আগে, কী প্রকাশ পেতে চলেছে তা দেখতে চেয়েছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী পায়ো ক্যাবানিলাস। দেখে বললেন, " দুর্দান্ত! " আর একই সঙ্গে ছেঁটে বাদ দিলেন ৪৫ টি চারুকলার প্রিন্ট যা আমরা ঠিক করেছিলাম সংখ্যায় রাখবো বলে।... '
শিরোনাম পড়ে অনেকেই বোধ হয় একটু ঘাবড়ে যেতে পারেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা! এও কি সম্ভব? আসুন একটু তলিয়ে দেখি। ফরাসি শব্দ আভাঁ গার্দ, ইংরেজিতে অ্যান্টিএস্টাব্লিশমেন্টের বাংলা প্রতিশব্দ হলো ' প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা '? যে ' প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার ' প্রতিষ্ঠান কোনো ইনস্টিটিউশন, সংগঠন বা সংস্থা নয়, নিছক শিল্প ও সাহিত্যের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা ( তত্ত্ব / ব্যাকরণ) ভেঙে নতুন ফর্মের প্রয়োগ? একটি পত্রিকাকে ' লিটল ম্যাগাজিন ' পরিভাষার শ্রেণিভুক্ত করতে গেলে তো আমরা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট দেখবো? নাকি দেখবো সেই নির্দিষ্ট পত্রিকা প্রকাশকের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুদ্ধদেব বসু যে ' পোয়েট্রি ' কে লিটল ম্যাগাজিন সম্বোধন করেছেন তার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যে কোনোদিনই small/ little ছিল না তা ২০১৭ তেই প্রমাণ সহ দেখিয়েছেন এরিক বালসন, তাঁর ' লিটল ম্যাগাজিন ওয়ার্ল্ড ফর্ম ' বইতে। ফলে লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের ক্ষেত্রে পুঁজি যে আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো ফ্যাক্টর নয় তা আমরা খুব ভালো করেই বুঝে গেছি।
![]() |
| দিয়েগো লারার করা পোয়েসিয়া-র নামাঙ্কন |
সাল ১৯৭৭। স্পেইনের সংস্কৃতি মন্ত্রালয় ঠিক করলেন, তাঁদের প্রকাশিত সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পত্রিকাটিকে ঢেলে সাজাবেন, যাকে বলে পুরো খোলনোলচে বদলে ফেলা। ১৯৫২ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রালয় কর্তৃক প্রকাশিত ' পোয়েসিয়া এস্পানোলা ' নাম বদলে ' পোয়েসিয়া হিসপানিকা' র তখন চাই তরুণ রক্ত। অগত্যা স্পেইনের তৎকালীন সংস্কৃতি মন্ত্রী পায়ো ক্যাবানিলাসের সবুজ সংকেতে, পোয়েসিয়ার দায়িত্বে থাকা জোসে গার্সিয়া নিয়েতোকে সরিয়ে তৈরি হলো এক নতুন পরিচালকমন্ডলী। ইতিহাসবিদ সান্তিয়াগো আমন ও স্থাপত্যবিদ আন্তোনিও ফারনান্ডেজ আলবা- র প্ররোচনায় মন্ত্রী ক্যাবানিলাস নিযুক্ত করলেন মাত্র ত্রিশ বছর বয়সি কবি ও প্রকাশক গনজেলো আরমেরোকে ' পোয়েসিয়ার ' নব নির্মিত প্রকল্পের দায়িত্বে। আরমেরো নিযুক্ত করলেন তাঁর ডিজাইনার বন্ধু দিয়েগো লারাকে। তৈরি হলো সম্পাদকমণ্ডলী যাতে রয়েছেন ইতিহাসবিদ সান্তিয়াগো আমন, জোসে মিগুয়েল উল্লান, মারিও হারনান্দেজ ও জোয়াকিন পুইগ ডি লা বেলাকাসা। যদিও নতুন রূপে পোয়েসিয়া প্রকাশ পাওয়ার মাস খানেক আগেই ভেঙে দেওয়া হয় নব নির্মিত সম্পাদকীয় কমিটিকে। অগত্যা পত্রিকার সার্বিক দায়িত্বে তখন গনজালো আরমেরো।
![]() |
| গনজালো আরমেরো |
নতুন রূপে যখন প্রকাশ পাবে তখন পত্রিকার নাম হবে 'Poesia : Revista ilustrada de informacion poetica'যা প্রতি নিয়ত নস্যাৎ করতে থাকবে তার পূর্বে প্রকাশিত সংখ্যার অ্যাকাডেমিক লেখাপত্রের ধারাকে, অস্বীকার করবে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা। কারণ যা আগে কখনো হয়নি সেটাই হতে চলেছে --- পত্রিকার পাতায় প্রকাশ পেতে চলেছে ফোটোগ্রাফি, সংগীত, প্রবন্ধ, চারুকলা ও স্থাপত্যশিল্পও।
![]() |
| নবপর্যায়ে প্রকাশিত প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ , ১৯৭৮ |
মার্চ ১৯৭৮ এ প্রকাশিত হলো আভাঁ গার্দে উদ্বুদ্ধ ' পোয়েসিয়া' র নবপর্যায়ের প্রথম সংখ্যা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আরমেরোকে। কন্টেন্ট প্রচ্ছদ ও অলংকরণের দাপটে পোয়েসিয়া করে নিয়েছে স্প্যানিশ রিভিস্তার ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী জায়গা, হয়ে উঠেছে কিংবদন্তী। ( স্প্যানিশ ভাষায় লিটল ম্যাগাজিনকে রিভিস্তা বলা হয়) আরমেরোর বাল্যবন্ধু দিয়েগো লারা প্রথমে নিযুক্ত হন গ্রাফিক ডিরেক্টর পদে এবং পরবর্তীতে পত্রিকার ডেপুটি ডিরেক্টর, অর্থাৎ সহযোগী সম্পাদক। যে ষোলোটি সংখ্যাব্যাপী তিনি পোয়েসিয়াতে নিযুক্ত ছিলেন প্রচ্ছদ হোক, অলংকরণ বা টাইপ সেটিং সবেতেই করে গিয়েছেন নিরন্তর পরীক্ষামূলক কাজ, আর পাঠক পেয়েছেন আভাঁ গার্দের ঝলক। এই নবপর্যায়ে প্রকাশিত প্রথম সংখ্যা থেকে শুরু করে পরবর্তী পনেরোটি সংখ্যা যদি খুঁটিয়ে দেখা হয়, বুঝতে অসুবিধে হয় না যে কোলাজ ছিল দিয়েগো লারার অন্যতম প্রিয় প্রকাশ মাধ্যম। প্রথম সংখ্যাটিতে যেমন দেখা গিয়েছে প্রতিষ্ঠিত স্প্যানিশ লেখকদের তেমনই উঠে আসছে এমন কিছু নাম যাঁরা সবে মাত্র তাঁদের লেখক সত্তার আত্মপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। একাধারে যেমন প্রকাশিত হচ্ছে ভিসেন্তি আলেকজান্দ্রে কিংবা ফ্রানসিস্কো পিনোর লেখা তেমনই দেখা যাচ্ছে নবাগত রাফায়েল স্যাঞ্চেজ ফারলোসিও কিংবা কুর্ট স্কিটসের নামও। মজার বিষয়, নবপর্যায়ে প্রকাশিত ' পোয়েসিয়ার ' ইতিহাসে সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছিল মাত্র দুটি আর দুটি সম্পাদকীয়ই প্রকাশিত হয়েছে নবপর্যায়ের প্রথম সংখ্যায়। প্রথমটি লেখেন সম্পাদক গনজালো আরমেরো। সম্পাদকীয়তে জোর দেন কবিতা নামক শিল্প মাধ্যমের ইল্যুশনের প্রতি, কবিতার ঐশ্বরিক আধুনিকতা ও অপ্রয়োজনীয়তার প্রতি। তিনি লেখেন ' কবিতার মধ্যেই অন্তর্নিহিত আছে মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। '
দ্বিতীয় সম্পাদকীয় আরমেরোর নিজের মতে ছিল ' চমকপ্রদ ' যে লেখার বীজ তাঁর মাথায় অঙ্কুরিত হয় মাদ্রিদের রাস্ত্রো অঞ্চলে। ৩০ নভেম্বর, ২০০৫ সালে মাদ্রিদের আর্কিটেকচার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে আরমেরো তাঁর বক্তৃতায় বলেন ---
' প্রথম সংখ্যাটি তখনও প্রকাশ হয়নি। প্রকাশের দিন কয়েক আগে গিয়েছিলুম মাদ্রিদের রাস্ত্রো অঞ্চলে, প্লাজা ডি লারা ডেল রে - তে। পুরো শপিং কম্পলেক্সের বেশির ভাগটাই দখল করে রেখেছে সেকেন্ড হ্যান্ড জামাকাপড়ের দোকান। তারই মাঝে এক ছোট্টো বইঘর। চোখে পড়লো ক্যাটালান পেনম্যানের ক্যালিগ্রাফির অ্যালবাম, নাম ' Ramon Stirling from the end of the 19th Century ' অসাধারণ বই! তারই পাতার মাঝে পেলুম এক ক্যালিগ্রাফিক প্রিন্ট। দেখে মনে হলো, আরে! আমি তো ঠিক এটাই বলতে চাইছি! ব্যাস, আর দেরি কেন, ছেপে দিলুম পত্রিকার পাতায়... '
ক্যালিগ্রাফিটিতে লেখা ছিল, " After the gift of Speech there is nothing much precious than writing ; for it is a second word ; it is the material interpreter of our thoughts, it is an astonishing vehicle that transports our ideas from the areas of one hemisphere to those of the other. By it, all the nations of the globe have been brought into contact ; by it we know what happened in the remotest centuries, and by it finally posterity will know the sublime action of the heroes of every age; the great discoveries of every era and the universal history of everything created. "
স্মৃতিমেদুর আরমেরো বলতে থাকেন, ' সত্যি কথা বলতে পোয়েসিয়ার বিভিন্ন সংখ্যায় কী করা যায় সেই ভাবনাগুলো আমাদের মাথায় আসতো ভোর রাতে, মাদ্রিদের কোনো বারে বসে। প্রথম সংখ্যাটির কথাই ধরুন, ওটার মধ্যে কনস্ট্রাকটিভিস্ট ও ডাডা পাবলিকেশন স্টাইলের এক মিশ্রণ আনতে চেয়েছিলুম আর ওটাই একমাত্র সংখ্যা যা ছাপতে যাওয়ার আগে, কী প্রকাশ পেতে চলেছে তা দেখতে চেয়েছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী পায়ো ক্যাবানিলাস। দেখে বললেন, " দুর্দান্ত! " আর একই সঙ্গে ছেঁটে বাদ দিলেন ৪৫ টি চারুকলার প্রিন্ট যা আমরা ঠিক করেছিলাম সংখ্যায় রাখবো বলে।... '
![]() |
| পোয়েসিয়ার কিছু প্রচ্ছদ |








Comments
Post a Comment