।। ইন্ডিপেনডেন্ট ম্যাগাজিনের বাঙালি নারী দেবিকা রায়।।
আংশিক অনুবাদ : সুশোভন রায়চৌধুরী
প্রশ্ন : এই সপ্তাহে ইউকে ক্রাফট কাউন্সিলের ক্রাফটস পত্রিকা আবারও প্রকাশ পেতে চলেছে ষাণ্মাসিক রূপে। নতুন ডিজাইন, উন্নততর কাগজ...
দেবিকা : সত্যি কথা বলতে আমরা এতদিনে একটা ইন্ডি ম্যাগের রূপ ধারন করতে পারছি। আমার সম্পাদিত পত্রিকা 'ক্লোভ ' ( দক্ষিণ এশিয়ান ডায়াস্পোরা সংক্রান্ত যে পত্রিকার কথা হয়তো শুনে থাকবেন) টাকার অভাবে বন্ধ করেছিলাম। সম্পাদনার গুরু দায়িত্ব থাকলেও আমি ভীষণ খুশি!
প্রশ্ন : জীবনে প্রথম কোন পত্রিকা পড়েছিলেন মনে আছে?
দেবিকা : বাঙালি হলেও আমার শৈশব কেটেছে দিল্লিতে। নব্বইয়ের দশকে ' নিউজ জয় ' নামে এক শিশুদের জন্যে সর্বভারতীয় পত্রিকা বেরোতো। পত্রিকাটা আমাদের বাড়িতে আসতো জানি কারণ সব কিছু মনে না থাকলেও এটা মনে আছে, প্রত্যেক শিশুর ( সাবস্ক্রাইবার) জন্মদিন উপলক্ষে, প্রতি মাসে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সহ তাদের নাম ছেপে বেরোতো পত্রিকার পাতায়। আমার নাম দেখে খুব আনন্দ হয়েছিল, সারা রাত সংখ্যাটা জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে ছিলাম। এর থেকে একটা শিক্ষা আমি গ্রহণ করেছি। পাঠক যেন মনে করেন তাঁরা আপনার পরিবারের সদস্য। ' ক্রাফটস' এ হয়তো জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা আমরা কোনোদিনই ছাপবো না। তবে পাঠকের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ তৈরিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
প্রশ্ন : মাত্র তিনটে শব্দে যদি 'ক্রাফটস' কে বর্ণনা করতে বলি ?
দেবিকা : হুম... চিন্তাশীল, আশাবাদী, শৈল্পিক।
প্রশ্ন : ১৯৭৩ থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে ' ক্রাফটস '। আপনার সম্পাদনায় বদল কী কী ঘটলো ?
দেবিকা : একটা কথা কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না। আগে ' ক্রাফটস ' ছিল মাসিক। এখন কিন্তু ষাণ্মাসিক আকারে প্রকাশিত হচ্ছে ফলে আমরা অনেক বেশি মনোযোগ দিতে পারবো প্রতিটি সংখ্যায়। একটি সংখ্যাকে যেহেতু প্রকাশের পরবর্তী ছ' মাস থাকতে হবে প্রাসঙ্গিক তাই জোর দিয়েছি চিন্তাশীল লেখার ওপর। আপনারা হয়তো জানেন, আমাদের ডিজাইনের দায়িত্বে রয়েছেন S- T স্টুডিও যারা ইতিমধ্যেই রয়াল আকাদেমির মুখপত্র ডিজাইন করে সাড়া ফেলেছে। আমি বিশ্বাস করি, বাকি সব কিছু ছেড়ে যদি পত্রিকার শিল্প- নান্দনিকতাকেও দেখা হয় ' ক্রাফটস ' হয়ে উঠবে সংগ্রহযোগ্য। এখন আগের থেকে পৃষ্ঠা সংখ্যা হয়ে গিয়েছে ডাবল, পাতার কোয়ালিটি বাড়িয়েছি। ছবি ও অলংকরণ তো আছেই। সঙ্গে প্রতিটা সংখ্যা প্রকাশ করতে চাইছি একটা নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে। এবারের বিষয় ছিল ' তাঁতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত '। উঠে এসেছে কীভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল ব্রিটেনের তাঁত শিল্প।
দেবিকা : হ্যাঁ। বিগত ২৯৫ টি সংখ্যাই ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে সংরক্ষিত আছে। পঞ্চাশ বছরের কাজ যখন একটা মাউসের ক্লিকে সামনে এসে দাঁড়ায় ভাবি শুরু করবো কোথা থেকে! আমি ব্যক্তিগত ভাবে লক্ষ করেছি, কীভাবে পত্রিকার লোগো, ফন্ট, প্রচ্ছদ পরিবর্তিত হয়েছে। গ্রাফিক্স এর ক্ষেত্রে হাজার একটা পরিবর্তন চোখে পড়লেও পত্রিকার মূল উদ্দেশ্য ছিল অপরিবর্তিত --- সমসাময়িক শিল্প ও শিল্পীদের কথা বলা। যেটা সম্পাদক হিসেবে আমি বজায় রাখবো বলেই ঠিক করেছি।
প্রশ্ন : এমন একটা গল্প বলতে পারেন যার মধ্যে দিয়ে ' ক্রাফটস ' এর সাম্প্রতিকতম সংখ্যা ফুটে উঠবে?
দেবিকা : শেষ সংখ্যায় আমরা অসাধারণ কিছু লেখা এবং ছবি ছাপতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় আউট অফ বক্স হিসেবে থেকে যাবে একটা কবিতা। লেখা হয়েছিল ১৮৬৪ সালে, লাঙ্কাশায়ারে যখন সুতোর মিলের কর্মচারীরা ধর্মঘট ডাকেন। লেখাটাও যেমন চমৎকার, গ্রাফিক ডিজাইনটাও হয়েছে ভালো। এটাই প্রমাণ করে মাসিক থেকে ষাণ্মাসিকে রূপান্তর শাপে বর হয়েছে আমাদের জন্যে।
প্রশ্ন : যাঁরা আগামীতে ব্যক্তি উদ্যোগে পত্রিকা প্রকাশে আগ্রহী তাঁদের জন্যে কোনো উপদেশ দেবেন?
দেবিকা : উপদেশ দেওয়াটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না? এটুকু বলতে পারি, পত্রিকা সম্পাদনা আমার কাছে খেলার মতো। মাঠের মধ্যে চলতে থাকা খেলা দেখতে যতটা সহজ মনে হয়, সেই সহজতাকে অর্জন করতে চাই মাঠের বাইরের পরিশ্রম, সে টাকা জোগাড় হোক, ডিস্ট্রিবিউশন হোক, প্রিন্টিং হোক বা মার্কেটিং। এগুলোই বোধ হয় একটা পত্রিকাকে করে তোলে দীর্ঘ মেয়াদি।
প্রশ্ন : আগামী সপ্তাহের জন্যে কোনো স্পেশাল প্ল্যান ?
দেবিকা : আছে তো। বন্ধুদের সাথে পার্টি করা। আর পত্রিকার পক্ষ থেকে একটা মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছি। টিমকে চাঙ্গা রাখতে মাঝে মধ্যে একটু ফাজলামিও করতে হয়। হা - হা - হা।
আপনারা হয়তো ভাবছেন, ছেলেটা কী করছে দেখো দিকি! সারা বিশ্বের ' লিটল ' নিয়েই নাজেহাল অবস্থা, তার ওপরে আবার ' ইন্ডিপেনডেন্ট ম্যাগাজিন '! বলি এসব খায় না মাথায় দেয়!
হুঁ হুঁ বাওয়া, শুধু নাকানিচোবানি খেলেই হবে? চোবানিটা কুয়োয় খেলুম, নদীতে নাকি সমুদ্রে সেটা দেখতে হবে না? ভালো করে মন দিয়ে শুনবেন কিন্তু।এই দু' টো বাক্য হেব্বি গুরুত্বপূর্ণ।
১.' লিটল ম্যাগাজিন ' পরিভাষার জন্মস্থান আমেরিকার বহু সম্পাদক এই নির্দিষ্ট শ্রেণির পত্রিকাকে ' লিটল ম্যাগাজিন ' পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত করতে চাননি। তাঁরা চাইতেন ' অ্যাডভান্স গার্ড ' পরিভাষাটিকে। ঠিক তেমনই ২০১০ পরবর্তী সময়ে সারা বিশ্ব ব্যাপী এরকম কিছু সম্পাদক এগিয়ে এসেছেন, যাঁরা চান সম্পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বাধীনতা সর্ব স্তরে, তা দর্শন হোক অথবা পুঁজির। ফলে তাঁদের ব্যক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত পত্রিকাকে' লিটল ' নয় বলেন ' ইন্ডিপেনডেন্ট ম্যাগাজিন ' সংক্ষেপে ' ইন্ডি ম্যাগ '।
২. বিশ্বের সমস্ত 'লিটল'ই ইন্ডি ম্যাগ কিন্তু সমস্ত ইন্ডি ম্যাগ ' লিটল ' নয়।
এবারে একটু তলিয়ে দেখা যাক?
আপনি লিটল ম্যাগের বড়ো হনু, বলিবেন, আমাদিগের একটি দর্শন আছে। আবহমান বাণিজ্য- স্রোতের বিরুদ্ধে ভাসিয়া চলাই জীবনের অভিষ্ট লক্ষ্য বলিয়া ধার্য্য করিয়াছি। হে আহাম্মক, তোমাদিগের সহিত এ হেন বিষয় লইয়া বাক্যব্যয় না করাই কৌলিন্য বোধের পরিচায়ক।
তেনারা বলিবেন, আমরা হলেম মুখ্যু মানুষ। দর্শন- টর্শন বুঝি না। তবে হ্যাঁ। বাণিজ্য- স্রোতে ভাসাই নিকো ভেলা এই কয়ে দিলুম।
আপনি ' লিটল ' এর হনু, বড়ো হনু, বলিবেন, মধ্যাহ্ন ভোজে খিচুড়ি ভক্ষণ করিয়া, প্রকৃষ্ট অন্নের স্বাদ হইতে নিজেকে বঞ্চিত করিতে চাহিবেন কেহ? যাহা শুনিয়া মেজো, সেজো ও ছোটো হনু তালে তাল ঠুকিয়া বলিয়া উঠিবেন, হে গুরুশ্রেষ্ঠ, আপনার মুখনিসৃত বাণী অমৃত সমান!
তেনারা বলিবেন, রাজা-উজিরদের কী আর খিচুড়ি মুখে রোচে? বলি ও কত্তা, আপনি যারে খিচুড়ি কন আমরা কই পরমান্ন। যা কপালে জোটে তাই খাই।
বুঝলেন কিছু? হ্যাঁ? কী বলছেন, স্পষ্ট হলো না বিষয়? তাহলে শুনুন ---
ইন্ডি ম্যাগ কোনো ইজম, কোনো এজেন্ডা কোনো আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পত্রিকা নয়। তাঁদের কনটেন্টের চারিত্রিক বৈশিষ্ট বা বিষয় যে কোনো মূহুর্তে বদলাতে পারে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট বিষয় ভিত্তিক পত্রিকার সামগ্রিকতা আনতে বেছে নিতে পারে ' ফরমায়েস ' এর পথ। আপনারা বলবেন, ' ফরমায়েসি ' লেখাই থাকছে অথচ বলছেন ' বাণিজ্যিক ' নয়? মজা হচ্ছে আমাদের সঙ্গে? আজ্ঞেঁ না , মজা করবার মতো ধৃষ্টতা আমার নেই। বিষয়টা হলো বাণিজ্যিকের ' ফরমায়েস ' হয়ে থাকে পাঠকের অভিরুচির কথা মাথায় রেখে যেখানে তাদের উদ্দেশ্য যেন তেন প্রকারে সংখ্যাটিকে বিক্রি করা। অথচ ইন্ডি ম্যাগ যখন কোনো লেখকের কাছে ফরমায়েস করে তা নিতান্তই সম্পাদকের ব্যক্তিগত চাহিদা। কারণ সম্পাদক চান নির্দিষ্ট বিষয়ের সামগ্রিকতা, যে আকাঙখা নিতান্তই তাঁর স্বপ্ন বা সম্পাদকীয় প্ল্যানের অন্তর্গত। সব কিছু জেনে বুঝে যদি কেউ প্রশ্ন করেন, ' বাণিজ্যিক পত্রিকার সম্পাদকেরাও যদি এই একই অজুহাত দেন? ' মাফ করবেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই, কারণ এখানে ইন্ডি ম্যাগ সম্পাদকের বিশ্বাসযোগ্যতাই বড়ো। ইটস অল অ্যাবাউট দ্য ট্রাস্ট ফ্যাক্টর...
পিরিয়ডিক্যাল স্টাডিজের আধুনিকতম কনসেপ্ট ইন্ডি ম্যাগে আমাদের দেশের সর্বপরি বাঙালির নাম উজ্জ্বল করছেন দেবিকা রায় তাঁর সম্পাদিত ' ক্রাফটস' এর মাধ্যমে। লন্ডনে অবস্থিত লিটল ম্যাগাজিনের দোকান ম্যাগেলারিয়ার এক সদস্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ' ক্রাফটস ' বিক্রি করবেন বলে। দেবিকা তাঁদের প্রস্তাবে রাজি হন এবং ইন্ট্রোডাক্টরি মার্কেটিং প্রসেসের অঙ্গ হিসেবে দেন কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর।
হুঁ হুঁ বাওয়া, শুধু নাকানিচোবানি খেলেই হবে? চোবানিটা কুয়োয় খেলুম, নদীতে নাকি সমুদ্রে সেটা দেখতে হবে না? ভালো করে মন দিয়ে শুনবেন কিন্তু।এই দু' টো বাক্য হেব্বি গুরুত্বপূর্ণ।
১.' লিটল ম্যাগাজিন ' পরিভাষার জন্মস্থান আমেরিকার বহু সম্পাদক এই নির্দিষ্ট শ্রেণির পত্রিকাকে ' লিটল ম্যাগাজিন ' পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত করতে চাননি। তাঁরা চাইতেন ' অ্যাডভান্স গার্ড ' পরিভাষাটিকে। ঠিক তেমনই ২০১০ পরবর্তী সময়ে সারা বিশ্ব ব্যাপী এরকম কিছু সম্পাদক এগিয়ে এসেছেন, যাঁরা চান সম্পূর্ণ স্বাধীনতা, স্বাধীনতা সর্ব স্তরে, তা দর্শন হোক অথবা পুঁজির। ফলে তাঁদের ব্যক্তি উদ্যোগে প্রকাশিত পত্রিকাকে' লিটল ' নয় বলেন ' ইন্ডিপেনডেন্ট ম্যাগাজিন ' সংক্ষেপে ' ইন্ডি ম্যাগ '।
২. বিশ্বের সমস্ত 'লিটল'ই ইন্ডি ম্যাগ কিন্তু সমস্ত ইন্ডি ম্যাগ ' লিটল ' নয়।
এবারে একটু তলিয়ে দেখা যাক?
আপনি লিটল ম্যাগের বড়ো হনু, বলিবেন, আমাদিগের একটি দর্শন আছে। আবহমান বাণিজ্য- স্রোতের বিরুদ্ধে ভাসিয়া চলাই জীবনের অভিষ্ট লক্ষ্য বলিয়া ধার্য্য করিয়াছি। হে আহাম্মক, তোমাদিগের সহিত এ হেন বিষয় লইয়া বাক্যব্যয় না করাই কৌলিন্য বোধের পরিচায়ক।
তেনারা বলিবেন, আমরা হলেম মুখ্যু মানুষ। দর্শন- টর্শন বুঝি না। তবে হ্যাঁ। বাণিজ্য- স্রোতে ভাসাই নিকো ভেলা এই কয়ে দিলুম।
আপনি ' লিটল ' এর হনু, বড়ো হনু, বলিবেন, মধ্যাহ্ন ভোজে খিচুড়ি ভক্ষণ করিয়া, প্রকৃষ্ট অন্নের স্বাদ হইতে নিজেকে বঞ্চিত করিতে চাহিবেন কেহ? যাহা শুনিয়া মেজো, সেজো ও ছোটো হনু তালে তাল ঠুকিয়া বলিয়া উঠিবেন, হে গুরুশ্রেষ্ঠ, আপনার মুখনিসৃত বাণী অমৃত সমান!
তেনারা বলিবেন, রাজা-উজিরদের কী আর খিচুড়ি মুখে রোচে? বলি ও কত্তা, আপনি যারে খিচুড়ি কন আমরা কই পরমান্ন। যা কপালে জোটে তাই খাই।
বুঝলেন কিছু? হ্যাঁ? কী বলছেন, স্পষ্ট হলো না বিষয়? তাহলে শুনুন ---
ইন্ডি ম্যাগ কোনো ইজম, কোনো এজেন্ডা কোনো আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত পত্রিকা নয়। তাঁদের কনটেন্টের চারিত্রিক বৈশিষ্ট বা বিষয় যে কোনো মূহুর্তে বদলাতে পারে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট বিষয় ভিত্তিক পত্রিকার সামগ্রিকতা আনতে বেছে নিতে পারে ' ফরমায়েস ' এর পথ। আপনারা বলবেন, ' ফরমায়েসি ' লেখাই থাকছে অথচ বলছেন ' বাণিজ্যিক ' নয়? মজা হচ্ছে আমাদের সঙ্গে? আজ্ঞেঁ না , মজা করবার মতো ধৃষ্টতা আমার নেই। বিষয়টা হলো বাণিজ্যিকের ' ফরমায়েস ' হয়ে থাকে পাঠকের অভিরুচির কথা মাথায় রেখে যেখানে তাদের উদ্দেশ্য যেন তেন প্রকারে সংখ্যাটিকে বিক্রি করা। অথচ ইন্ডি ম্যাগ যখন কোনো লেখকের কাছে ফরমায়েস করে তা নিতান্তই সম্পাদকের ব্যক্তিগত চাহিদা। কারণ সম্পাদক চান নির্দিষ্ট বিষয়ের সামগ্রিকতা, যে আকাঙখা নিতান্তই তাঁর স্বপ্ন বা সম্পাদকীয় প্ল্যানের অন্তর্গত। সব কিছু জেনে বুঝে যদি কেউ প্রশ্ন করেন, ' বাণিজ্যিক পত্রিকার সম্পাদকেরাও যদি এই একই অজুহাত দেন? ' মাফ করবেন, এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই, কারণ এখানে ইন্ডি ম্যাগ সম্পাদকের বিশ্বাসযোগ্যতাই বড়ো। ইটস অল অ্যাবাউট দ্য ট্রাস্ট ফ্যাক্টর...
পিরিয়ডিক্যাল স্টাডিজের আধুনিকতম কনসেপ্ট ইন্ডি ম্যাগে আমাদের দেশের সর্বপরি বাঙালির নাম উজ্জ্বল করছেন দেবিকা রায় তাঁর সম্পাদিত ' ক্রাফটস' এর মাধ্যমে। লন্ডনে অবস্থিত লিটল ম্যাগাজিনের দোকান ম্যাগেলারিয়ার এক সদস্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন ' ক্রাফটস ' বিক্রি করবেন বলে। দেবিকা তাঁদের প্রস্তাবে রাজি হন এবং ইন্ট্রোডাক্টরি মার্কেটিং প্রসেসের অঙ্গ হিসেবে দেন কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর।
![]() |
| সম্পাদক দেবিকা রায়। |
প্রশ্ন : এই সপ্তাহে ইউকে ক্রাফট কাউন্সিলের ক্রাফটস পত্রিকা আবারও প্রকাশ পেতে চলেছে ষাণ্মাসিক রূপে। নতুন ডিজাইন, উন্নততর কাগজ...
দেবিকা : সত্যি কথা বলতে আমরা এতদিনে একটা ইন্ডি ম্যাগের রূপ ধারন করতে পারছি। আমার সম্পাদিত পত্রিকা 'ক্লোভ ' ( দক্ষিণ এশিয়ান ডায়াস্পোরা সংক্রান্ত যে পত্রিকার কথা হয়তো শুনে থাকবেন) টাকার অভাবে বন্ধ করেছিলাম। সম্পাদনার গুরু দায়িত্ব থাকলেও আমি ভীষণ খুশি!
প্রশ্ন : আজ সকাল থেকে কী কী করলেন?
দেবিকা : আমার দপ্তর আপনাদের দোকান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। এখানেই ১৯৭৩ থেকে প্রকাশিত হয়েছে 'ক্রাফটস'। গত সপ্তাহেই প্রকাশিত হলো আমাদের সাম্প্রতিকতম সংখ্যা। আজকের কাজ বলতে তারই মার্কেটিং, ডিস্ট্রিবিউশন, এটা সেটা নিয়ে দৌড়োদৌড়ি। আমরা প্রত্যেকে এতটা এক্সাইটেড, যে এক্সপেরিমেন্টাল ভাবনায় কী ভাবে যে সকাল গড়িয়ে দুপুর হচ্ছে বুঝতেই পারছি না।
প্রশ্ন : কাজের জায়গা, এডিটর'স টেবিল সম্পর্কে যদি কিছু বলবার থাকে....
দেবিকা : পেটনভিলে রোডে, ক্রাফট কাউন্সিলের ঠিক পেছনেই আমাদের দপ্তর হওয়ায় বেশ সুবিধে হয়েছে। লাঞ্চ টাইমে হরেক রকম জিনিস খাওয়া যায়, যেদিন যেটা ইচ্ছে। জানি, বলবেন ' ইট হেলদি '! কিন্তু কী করবো বলুন হাজার হোক বাঙালি বলে কথা। খাওয়া - দাওয়া ছেড়ে বস আমি থাকতে পারবো না! হা -হা-হা। জোকস অ্যাপার্ট, আমি বসি প্রথম তলায়। রোদ্দুর উঠলে সামনের খোলা বারান্দায় বসে পথ- চলতি মানুষ দেখি আর খাই।
তবে আমার বোহেমিয়ান কথাবার্তা শুনে যেন ভাববেন না দপ্তরের সব্বাই আমারই মতো। প্যান্ডেমিক যেই না কমলো, ম্যাকবুক থেকে কেউ মুখ তুলছেন না, কাজের মধ্যে এতটাই মগ্ন। তার কিছুটা আভাস অবশ্য টেবিলে জড়ো হওয়া পত্র- পত্রিকা ও বইয়ের স্তুপ দেখলেই পাবেন।
দেবিকা : আমার দপ্তর আপনাদের দোকান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। এখানেই ১৯৭৩ থেকে প্রকাশিত হয়েছে 'ক্রাফটস'। গত সপ্তাহেই প্রকাশিত হলো আমাদের সাম্প্রতিকতম সংখ্যা। আজকের কাজ বলতে তারই মার্কেটিং, ডিস্ট্রিবিউশন, এটা সেটা নিয়ে দৌড়োদৌড়ি। আমরা প্রত্যেকে এতটা এক্সাইটেড, যে এক্সপেরিমেন্টাল ভাবনায় কী ভাবে যে সকাল গড়িয়ে দুপুর হচ্ছে বুঝতেই পারছি না।
প্রশ্ন : কাজের জায়গা, এডিটর'স টেবিল সম্পর্কে যদি কিছু বলবার থাকে....
দেবিকা : পেটনভিলে রোডে, ক্রাফট কাউন্সিলের ঠিক পেছনেই আমাদের দপ্তর হওয়ায় বেশ সুবিধে হয়েছে। লাঞ্চ টাইমে হরেক রকম জিনিস খাওয়া যায়, যেদিন যেটা ইচ্ছে। জানি, বলবেন ' ইট হেলদি '! কিন্তু কী করবো বলুন হাজার হোক বাঙালি বলে কথা। খাওয়া - দাওয়া ছেড়ে বস আমি থাকতে পারবো না! হা -হা-হা। জোকস অ্যাপার্ট, আমি বসি প্রথম তলায়। রোদ্দুর উঠলে সামনের খোলা বারান্দায় বসে পথ- চলতি মানুষ দেখি আর খাই।
তবে আমার বোহেমিয়ান কথাবার্তা শুনে যেন ভাববেন না দপ্তরের সব্বাই আমারই মতো। প্যান্ডেমিক যেই না কমলো, ম্যাকবুক থেকে কেউ মুখ তুলছেন না, কাজের মধ্যে এতটাই মগ্ন। তার কিছুটা আভাস অবশ্য টেবিলে জড়ো হওয়া পত্র- পত্রিকা ও বইয়ের স্তুপ দেখলেই পাবেন।
![]() |
| দপ্তরে দেবিকা রায় |
প্রশ্ন : জীবনে প্রথম কোন পত্রিকা পড়েছিলেন মনে আছে?
দেবিকা : বাঙালি হলেও আমার শৈশব কেটেছে দিল্লিতে। নব্বইয়ের দশকে ' নিউজ জয় ' নামে এক শিশুদের জন্যে সর্বভারতীয় পত্রিকা বেরোতো। পত্রিকাটা আমাদের বাড়িতে আসতো জানি কারণ সব কিছু মনে না থাকলেও এটা মনে আছে, প্রত্যেক শিশুর ( সাবস্ক্রাইবার) জন্মদিন উপলক্ষে, প্রতি মাসে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সহ তাদের নাম ছেপে বেরোতো পত্রিকার পাতায়। আমার নাম দেখে খুব আনন্দ হয়েছিল, সারা রাত সংখ্যাটা জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে ছিলাম। এর থেকে একটা শিক্ষা আমি গ্রহণ করেছি। পাঠক যেন মনে করেন তাঁরা আপনার পরিবারের সদস্য। ' ক্রাফটস' এ হয়তো জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা আমরা কোনোদিনই ছাপবো না। তবে পাঠকের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ তৈরিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
প্রশ্ন : র্যান্ডমলি যদি একটা পত্রিকার নাম বলতে বলি...
দেবিকা : ইন্ডিপেনডেন্ট ম্যাগাজিন ' এলিফ্যান্ট ' এর কথা বলবো। গতকাল রাতেই এক বন্ধুর সঙ্গে গেঁজাচ্ছিলাম ফোনে। ওর কাছেই শুনলাম ' এলিফ্যান্ট ' নাকি বন্ধ হয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছে। তখন থেকে অবচেতনে ওদের প্রচ্ছদগুলো চোখের সামনে ভাসছে।
দেবিকা : ইন্ডিপেনডেন্ট ম্যাগাজিন ' এলিফ্যান্ট ' এর কথা বলবো। গতকাল রাতেই এক বন্ধুর সঙ্গে গেঁজাচ্ছিলাম ফোনে। ওর কাছেই শুনলাম ' এলিফ্যান্ট ' নাকি বন্ধ হয়ে যাবে বলে ঘোষণা করেছে। তখন থেকে অবচেতনে ওদের প্রচ্ছদগুলো চোখের সামনে ভাসছে।
প্রশ্ন : মাত্র তিনটে শব্দে যদি 'ক্রাফটস' কে বর্ণনা করতে বলি ?
দেবিকা : হুম... চিন্তাশীল, আশাবাদী, শৈল্পিক।
প্রশ্ন : ১৯৭৩ থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে ' ক্রাফটস '। আপনার সম্পাদনায় বদল কী কী ঘটলো ?
দেবিকা : একটা কথা কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না। আগে ' ক্রাফটস ' ছিল মাসিক। এখন কিন্তু ষাণ্মাসিক আকারে প্রকাশিত হচ্ছে ফলে আমরা অনেক বেশি মনোযোগ দিতে পারবো প্রতিটি সংখ্যায়। একটি সংখ্যাকে যেহেতু প্রকাশের পরবর্তী ছ' মাস থাকতে হবে প্রাসঙ্গিক তাই জোর দিয়েছি চিন্তাশীল লেখার ওপর। আপনারা হয়তো জানেন, আমাদের ডিজাইনের দায়িত্বে রয়েছেন S- T স্টুডিও যারা ইতিমধ্যেই রয়াল আকাদেমির মুখপত্র ডিজাইন করে সাড়া ফেলেছে। আমি বিশ্বাস করি, বাকি সব কিছু ছেড়ে যদি পত্রিকার শিল্প- নান্দনিকতাকেও দেখা হয় ' ক্রাফটস ' হয়ে উঠবে সংগ্রহযোগ্য। এখন আগের থেকে পৃষ্ঠা সংখ্যা হয়ে গিয়েছে ডাবল, পাতার কোয়ালিটি বাড়িয়েছি। ছবি ও অলংকরণ তো আছেই। সঙ্গে প্রতিটা সংখ্যা প্রকাশ করতে চাইছি একটা নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে। এবারের বিষয় ছিল ' তাঁতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত '। উঠে এসেছে কীভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিল ব্রিটেনের তাঁত শিল্প।
প্রশ্ন : কখনো আর্কাইভে ঢুকে পুরোনো সংখ্যা খুলে দেখেন? মানে পুরোনো সংখ্যা কি কোনো ভাবে প্রভাব ফেলে আপনার সম্পাদনায় ?
দেবিকা : হ্যাঁ। বিগত ২৯৫ টি সংখ্যাই ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে সংরক্ষিত আছে। পঞ্চাশ বছরের কাজ যখন একটা মাউসের ক্লিকে সামনে এসে দাঁড়ায় ভাবি শুরু করবো কোথা থেকে! আমি ব্যক্তিগত ভাবে লক্ষ করেছি, কীভাবে পত্রিকার লোগো, ফন্ট, প্রচ্ছদ পরিবর্তিত হয়েছে। গ্রাফিক্স এর ক্ষেত্রে হাজার একটা পরিবর্তন চোখে পড়লেও পত্রিকার মূল উদ্দেশ্য ছিল অপরিবর্তিত --- সমসাময়িক শিল্প ও শিল্পীদের কথা বলা। যেটা সম্পাদক হিসেবে আমি বজায় রাখবো বলেই ঠিক করেছি।
![]() |
| দপ্তরে সহযোগী সম্পাদক |
প্রশ্ন : এমন একটা গল্প বলতে পারেন যার মধ্যে দিয়ে ' ক্রাফটস ' এর সাম্প্রতিকতম সংখ্যা ফুটে উঠবে?
দেবিকা : শেষ সংখ্যায় আমরা অসাধারণ কিছু লেখা এবং ছবি ছাপতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় আউট অফ বক্স হিসেবে থেকে যাবে একটা কবিতা। লেখা হয়েছিল ১৮৬৪ সালে, লাঙ্কাশায়ারে যখন সুতোর মিলের কর্মচারীরা ধর্মঘট ডাকেন। লেখাটাও যেমন চমৎকার, গ্রাফিক ডিজাইনটাও হয়েছে ভালো। এটাই প্রমাণ করে মাসিক থেকে ষাণ্মাসিকে রূপান্তর শাপে বর হয়েছে আমাদের জন্যে।
প্রশ্ন : যাঁরা আগামীতে ব্যক্তি উদ্যোগে পত্রিকা প্রকাশে আগ্রহী তাঁদের জন্যে কোনো উপদেশ দেবেন?
দেবিকা : উপদেশ দেওয়াটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না? এটুকু বলতে পারি, পত্রিকা সম্পাদনা আমার কাছে খেলার মতো। মাঠের মধ্যে চলতে থাকা খেলা দেখতে যতটা সহজ মনে হয়, সেই সহজতাকে অর্জন করতে চাই মাঠের বাইরের পরিশ্রম, সে টাকা জোগাড় হোক, ডিস্ট্রিবিউশন হোক, প্রিন্টিং হোক বা মার্কেটিং। এগুলোই বোধ হয় একটা পত্রিকাকে করে তোলে দীর্ঘ মেয়াদি।
প্রশ্ন : আগামী সপ্তাহের জন্যে কোনো স্পেশাল প্ল্যান ?
দেবিকা : আছে তো। বন্ধুদের সাথে পার্টি করা। আর পত্রিকার পক্ষ থেকে একটা মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেছি। টিমকে চাঙ্গা রাখতে মাঝে মধ্যে একটু ফাজলামিও করতে হয়। হা - হা - হা।










Comments
Post a Comment