।। বাঁধন ভাঙার ডাক ।।
অনুবাদ সুশোভন রায়চৌধুরী
ভারতে যে সমস্ত শিল্প- সাহিত্যের পত্র- পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে তাদের মধ্যে ' হাকারা ' ব্যতিক্রম। আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে তাঁদের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ গড়ে দেয় ফারাক। বার্ষিক আকারে প্রকাশিত এই দ্বিভাষিক ওয়েবজিনের এখনো পর্যন্ত পাঁচটি সংখ্যাই প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটিই বিষয় ভিত্তিক। প্রকাশিত হয়েছে মারাঠি ফিকশন, ছোটো গল্প ও সমালোচনা। থাকে চিত্রকলা ও ভিডিওগ্রাফিক রিপ্রেজেন্টেশনও। অ্যাকাডেমিক ও নন অ্যাকাডেমিক ডিসকোর্সের মাঝামাঝি অবস্থান নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন ফর্ম, কন্টেন্ট, কন্টেক্সট ও সেল্ফ এক্সপ্রেশন নিয়ে। যেমন তাঁদের দ্বিতীয় সংখ্যার বিষয় ছিল ' ঘর '। তাঁরা সংখ্যার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছেন, এই শব্দ শুধু জায়গা বোঝায় না, এটি এমন এক শব্দ যা মানুষ তৈরি করে, একটি ভাষা যা মানুষ বলে, একটি তৈরি করা কাজ, মানুষেরই।
বরুণ : পত্রিকা প্রকাশের ভাবনা কোথা থেকে এসেছিল এবং শিল্প- সাহিত্যের প্রতি আপনাদের অ্যাপ্রোচটাই বা কী ?
আশুতোষ : ' হাকারা ' শুরু ২০১৭ তে। একেবারেই পার্সোনাল জার্নি। তখন এমন একটা সময় যখন কর্ম সূত্রে নূপূরের সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা সাক্ষাতও হতো। আপনি হয়তো জানেন, তার আগে আমি মারাঠি নাটক, উপন্যাস, কবিতার মতো ছাইপাশ লিখে বেড়াচ্ছি। হঠাৎ মনে হলো, এই যে নূপূর সম্পূর্ণ ভিস্যুয়াল দুনায় রয়েছে, দু' টোকে মিশিয়ে একটা সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলে কেমন হয় ? এমন এক ঘর যেখানে শিল্পী ও সাহিত্যিকেরা মন খুলে কথা বলবেন...
ভারতে যে সমস্ত শিল্প- সাহিত্যের পত্র- পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে তাদের মধ্যে ' হাকারা ' ব্যতিক্রম। আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে তাঁদের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ গড়ে দেয় ফারাক। বার্ষিক আকারে প্রকাশিত এই দ্বিভাষিক ওয়েবজিনের এখনো পর্যন্ত পাঁচটি সংখ্যাই প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটিই বিষয় ভিত্তিক। প্রকাশিত হয়েছে মারাঠি ফিকশন, ছোটো গল্প ও সমালোচনা। থাকে চিত্রকলা ও ভিডিওগ্রাফিক রিপ্রেজেন্টেশনও। অ্যাকাডেমিক ও নন অ্যাকাডেমিক ডিসকোর্সের মাঝামাঝি অবস্থান নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন ফর্ম, কন্টেন্ট, কন্টেক্সট ও সেল্ফ এক্সপ্রেশন নিয়ে। যেমন তাঁদের দ্বিতীয় সংখ্যার বিষয় ছিল ' ঘর '। তাঁরা সংখ্যার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছেন, এই শব্দ শুধু জায়গা বোঝায় না, এটি এমন এক শব্দ যা মানুষ তৈরি করে, একটি ভাষা যা মানুষ বলে, একটি তৈরি করা কাজ, মানুষেরই।
' হাকারা ' র দুই সম্পাদক পেশাগত ভাবে একেবারেই ভিন্ন জগতের। নাট্যকার, কবি, গদ্যকার ও অনুবাদক আশুতোষ পটদারের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে কাজ করে চলেছেন শিল্প সমালোচক ও গবেষক নূপূর দেশাই যাঁরা দু' জনেই মারাঠি ও ইংরেজিতে সিদ্ধহস্ত। দু' ই ভিন্ন জগত থেকে আসবার ফলে পত্রিকায় পাওয়া - না পাওয়ার অঙ্ক মেলানোর তাগিদ একেবারেই নেই, ভাষা ও চিন্তাও দৌড়োয় না একই লাইনে। মারাঠি - ইংরেজি শিল্প - সাহিত্যের অনলাইন পত্রিকা ' হাকারা ' সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নের ডালি সাজিয়ে বসেছিলেন বরুণ নায়ার। তারই তর্জমা রইলো বন্ধুদের জন্যে।
বরুণ : পত্রিকা প্রকাশের ভাবনা কোথা থেকে এসেছিল এবং শিল্প- সাহিত্যের প্রতি আপনাদের অ্যাপ্রোচটাই বা কী ?
আশুতোষ : ' হাকারা ' শুরু ২০১৭ তে। একেবারেই পার্সোনাল জার্নি। তখন এমন একটা সময় যখন কর্ম সূত্রে নূপূরের সঙ্গে মাঝে মধ্যে দেখা সাক্ষাতও হতো। আপনি হয়তো জানেন, তার আগে আমি মারাঠি নাটক, উপন্যাস, কবিতার মতো ছাইপাশ লিখে বেড়াচ্ছি। হঠাৎ মনে হলো, এই যে নূপূর সম্পূর্ণ ভিস্যুয়াল দুনায় রয়েছে, দু' টোকে মিশিয়ে একটা সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলে কেমন হয় ? এমন এক ঘর যেখানে শিল্পী ও সাহিত্যিকেরা মন খুলে কথা বলবেন...
নূপূর : এর আগেও আমরা বেশ কিছু প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করেছিলাম। আমি ভিস্যুয়াল আর্ট ও ক্রিটিসিজম ব্যাকগ্রাউন্ডের আর আশুতোষ যাকে বলে হার্ডকোর সাহিত্য, ফলে দু' জন দু' জনের কাজকে আলাদা দৃষ্টকোণ থেকে দেখতে পারি। মাদের কাছে মারাঠি আঞ্চলিকতাকে কেন্দ্র করে পত্রিকার প্রকাশ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ভাবছিলাম এর আইডেন্টিটি কী হবে। মারাঠি শব্দ ' হাকারা ' মনে ধরলো, যার অর্থ ' ক্রমাগত ডাক '। এমন কিছু যা চলবে...এবং থাকবেও। পরবর্তীতে আরও কিছু চিন্তা ভাবনা আছে, দেখা যাক কত দূর কী হয়। ( মুচকি হাসি)
বরুণ : যদি জানতে চাই ' হাকারা' র শিল্প ও সাহিত্যের শেকড় ঠিক কোথায়? এই বৃহত্তর পরিসরে পত্রিকার স্থান কোথায় ?
আশুতোষ : ভারতের যে কোনো ভাষার শিল্প সাহিত্যের দিকে লক্ষ করুন, দেখবেন পেছনে বিরাট বড়ো ইতিহাস রয়েছে। বিশেষত আমাদের আধুনিক যুগে শিল্পের যে ফর্ম এবং এক্সপ্রেশনের পরিবর্তন দেখছেন তার বেশির ভাগটাই কিন্তু এসেছে সামাজিক পরিবর্তনের ফলে যেখানে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে লিটল ম্যাগাজিন --- শিল্প, শিল্পী ও পাঠকের মধ্যে তৈরি করছে নিজস্ব মতবাদ। একইরকম ভাবে মারাঠি সাহিত্যেরও সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে ? আমাদের কাজ হলো সেই ইতিহাসের ফাঁকতালে ঢুকে পড়া। উনিশ শতক থেকেই মারাঠি ছাপাখানায় ঘটেছে একের পর এক বিপ্লব। শুধু মারাঠি কেন, কান্নাড়া, গুজরাটি ও হিন্দিও কম যায়নি। যে দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মারাঠি সাহিত্যকে দেখি তাতে বিষয়টা খুবই বৈচিত্রময়, সে বৈচিত্রময়তা ফর্মের হোক অথবা আঞ্চলিকতার। খেয়াল করে দেখুন, শ্রেণি, বর্ণ ও লিঙ্গের বিভেদে বদলে যায় ভাষাটাই! তাই সাহিত্যের ফর্মের বদলও ঘটে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা থেকে। এই অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করাই আমাদের ' হাকারা ' প্রকাশের অন্যতম উদ্দেশ্য। একদিকে আমাদের কাগজ যদি তার ভাষার শেকড়কে আঁকড়ে ধরে তো অন্যদিকে দৌড়োয় পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত, দুর্বিনীত জেদকে করে সঙ্গী।
বরুণ : যদি জানতে চাই ' হাকারা' র শিল্প ও সাহিত্যের শেকড় ঠিক কোথায়? এই বৃহত্তর পরিসরে পত্রিকার স্থান কোথায় ?
আশুতোষ : ভারতের যে কোনো ভাষার শিল্প সাহিত্যের দিকে লক্ষ করুন, দেখবেন পেছনে বিরাট বড়ো ইতিহাস রয়েছে। বিশেষত আমাদের আধুনিক যুগে শিল্পের যে ফর্ম এবং এক্সপ্রেশনের পরিবর্তন দেখছেন তার বেশির ভাগটাই কিন্তু এসেছে সামাজিক পরিবর্তনের ফলে যেখানে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে লিটল ম্যাগাজিন --- শিল্প, শিল্পী ও পাঠকের মধ্যে তৈরি করছে নিজস্ব মতবাদ। একইরকম ভাবে মারাঠি সাহিত্যেরও সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে ? আমাদের কাজ হলো সেই ইতিহাসের ফাঁকতালে ঢুকে পড়া। উনিশ শতক থেকেই মারাঠি ছাপাখানায় ঘটেছে একের পর এক বিপ্লব। শুধু মারাঠি কেন, কান্নাড়া, গুজরাটি ও হিন্দিও কম যায়নি। যে দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মারাঠি সাহিত্যকে দেখি তাতে বিষয়টা খুবই বৈচিত্রময়, সে বৈচিত্রময়তা ফর্মের হোক অথবা আঞ্চলিকতার। খেয়াল করে দেখুন, শ্রেণি, বর্ণ ও লিঙ্গের বিভেদে বদলে যায় ভাষাটাই! তাই সাহিত্যের ফর্মের বদলও ঘটে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা থেকে। এই অভিজ্ঞতাকে সঞ্চয় করাই আমাদের ' হাকারা ' প্রকাশের অন্যতম উদ্দেশ্য। একদিকে আমাদের কাগজ যদি তার ভাষার শেকড়কে আঁকড়ে ধরে তো অন্যদিকে দৌড়োয় পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত, দুর্বিনীত জেদকে করে সঙ্গী।
বরুণ : 'হাকারা ' প্রকাশের পেছনে ভাবনাটা কী ছিল ? মানে কেন দ্বিভাষিক ?
আশুতোষ : দ্বিভাষিক রূপে আমাদের কাজ হলো to identify, support and disseminate artistic expressions that are language specific. অর্থাৎ আমরা একটি আঞ্চলিক অবস্থানে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করলেও, প্রতি নিয়ত আঞ্চলিক শিল্প- অভিব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও, আঞ্চলিকতার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে চাই। খুব গুরু গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে তাই না ?
বরুণ : না না। খুবই ভালো লাগছে, গভীরতায় পৌঁছোতে পারছি।
নূপূর : আমি বলি শুনুন... এই ভাষার ব্যাপারটাই খুব ইন্টারেস্টিং। যখন আমরা বলি 'আঞ্চলিক ভাষায়' কিছু একটা প্রকাশ করছি তখন এই আঞ্চলিকতাকে সীমাবদ্ধতা বলে অনেকে ধরে নিতে চান, তার ওপর মারাঠি ভাষা রাজনীতির আইডেন্টিটি পলিটিক্স তো আছেই। অথচ এই দ্বিভাষিকতাই আমাদের সাহায্য করে চিন্তার ব্যাসার্ধকে একটু বাড়াতে। তাছাড়া দ্বিভাষিকতার উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে ভারতীয় সাহিত্য, শিল্প ও অ্যাস্থেটিক্স চর্চায়। আশুতোষ যেটা আগেই বললেন, মারাঠি ভাষার বিভিন্ন ডায়ালেক্ট রয়েছে যেগুলি নিয়ে আমরা নিরন্তর কাজ করে চলেছি।
এতো গেলো একটা দিক। অপর দিকে অনুবাদ আমাদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মারাঠি থেকে ইংরেজির অনুবাদ যেমন প্রয়োজন তেমনই ভারতের বাকি ভাষাগুলি থেকে মারাঠি অনুবাদও গুরুত্বপূর্ণ ? আমরা একটি সংখ্যায় গুজরাটি ও তামিল সাহিত্যের অনুবাদ প্রকাশ করেছি যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই ইংরেজি কাজ করেছে ইন্টারমিডিয়ারি ভাষা হিসেবে। 'হাকারা' তে প্রকাশিত সমস্ত লেখাই ইংরেজি এবং মারাঠিতে প্রকাশিত হয় না। আমরা লেখককে পূর্ণ স্বাধীনতা দেই তাঁর পছন্দের ভাষায় লিখতে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এক একটা লেখা এত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় যে তার অনুবাদ ছাপাতেও ভুলি না।
বরুণ : আমার মনে হয় ভাষা রাজনীতি সবসময় একটা গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে চলেছে। সে যতই আপনি স্বপ্ন দেখুন, যতই হয়ে উঠুন প্রতিষ্ঠিত পন্থাকে নস্যাৎ করতে উদ্যোগী। আপনাদের ২০১৯ সংখ্যার বিষয় ছিল ' সীমারেখা ' যেখানে শিল্পী গিলার্মো গোমেজ পেনা ও গেব্রিয়েলা সালগাদোর একটি সাক্ষাৎকারের মারাঠি অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সম্ভবত সীমারেখা অতিক্রম করে ডেকে আনা সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। ' হাকারা' র জন্যে ভাষিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সীমারেখা কোনটি, যদি থাকে সেই সীমারেখা অতিক্রমের কোনো ইচ্ছে ?
আশুতোষ : সীমারেখা না বলে বরং বলি, আমাদের কাজ ফ্লুইডিটি নিয়ে। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শিল্প- সাহিত্য বহুভাষিক, যেখানে এক ভাষা থেকে খুব সহজেই পৌঁছোনো যায় অপর ভাষায়। হ্যাঁ, বর্ডার যেমন আছে, তেমনই আরও অনেক কিছুই আছে। আপনি যদি মারাঠির মৌখিক উপস্থাপনের কথা ধরেন তাহলে তার ফিলোসফিক্যাল ডিসকোর্স কিন্তু ক্রিয়েটিভ বা ইমাজিনেটিভ ফর্মেও দেখানো যায়। আসলে আমি বলতে চাইছি it's just not about borders but also about locating something in between, an in- betweenness in the forms of expression! আমি কিন্তু বরাবরই বলে আসছি, আমাদের কাজটাই হলো একজন চর্চাকারী ও গবেষকের মাঝে সেতুবন্ধনের।
নূপূর : দেখুন, ইন্টারডিসিপ্লিনারিটি একটা বড়ো ব্যাপার। আমার খুব ভালো লাগছে যে আপনি গোমেজ পেনা ও সালগাদোর সাক্ষাৎকারটির কথা উল্লেখ করলেন। কাজটা করবার সময়ে কত যে আলোচনা হয়েছে অনুবাদকের সঙ্গে! এরকম নির্দিষ্ট সংস্কৃতির বিষয়কে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষা ও পরিবেশে উপস্থাপন করা নিঃসন্দেহে এক বড়ো চ্যালেঞ্জ। ঠিক এরকমই এক কঠিন পরিস্থিতি হয়েছিল অড্রে লর্ড ও জেমস বাল্ডউইনের একটি সাক্ষাৎকারের মারাঠি অনুবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে। তাঁদের বিষয়টি ছিল, ' Concerns of the intersection of race and the gendered histories of Black women and men. ' এখন ' Black ' শব্দের মারাঠি অনুবাদ কী হবে ? সরাসরি অনুবাদ করলে দাঁড়ায় কৃষ্ণবর্ণীয় কিন্তু অনুবাদকের মনে তখন খুঁতখুঁতে ভাব, ভাবছেন এত ডমিনেন্ট ফর্ম ব্যবহার করা ঠিক হবে? আবার মৌখিক ভাবে ' কালা ' শব্দটি খুবই প্রচলিত কিন্তু সেখানেও কোথায় একটা illegality উৎপন্ন হয়! এই নিয়ে আমাদের মধ্যে চলেছিল বিস্তর আলোচনা। পুরোনো মারাঠি বই- পত্তর ঘেঁটে পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। শেষমেশ চোখে পড়লো সাহিত্যিক শর্মিলা রেগের কৃষ্ণাঙ্গ ও দলিত আন্দোলন বিষয়ক লেখা। যেখানে তিনি ' Black Feminism ' কে ' kalaa streevaad ' বলে সম্বোধন করেছেন। তখন আমরাও ওই ' কালা ' তেই স্থিত হলাম। আমি বলতে চাইছি, এই যে লেখকদের সঙ্গে বলুন বা অনুবাদকদের সঙ্গে, ক্রমাগত যে আলোচনাগুলো চলে তা সবই কিন্তু গতানুগতিক সাহিত্য ও প্রকাশনার ধারা থেকে আলাদা।
বরুণ : হাকারা- র একটি সংখ্যা শুরু হয় কোথা থেকে? এই বিষয়ে আপনাদের অ্যাপ্রোচ নিয়ে যদি বলেন...
নূপূর : আমি বলি?
বরুণ : হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।
আশুতোষ : দ্বিভাষিক রূপে আমাদের কাজ হলো to identify, support and disseminate artistic expressions that are language specific. অর্থাৎ আমরা একটি আঞ্চলিক অবস্থানে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করলেও, প্রতি নিয়ত আঞ্চলিক শিল্প- অভিব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও, আঞ্চলিকতার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে চাই। খুব গুরু গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে তাই না ?
বরুণ : না না। খুবই ভালো লাগছে, গভীরতায় পৌঁছোতে পারছি।
নূপূর : আমি বলি শুনুন... এই ভাষার ব্যাপারটাই খুব ইন্টারেস্টিং। যখন আমরা বলি 'আঞ্চলিক ভাষায়' কিছু একটা প্রকাশ করছি তখন এই আঞ্চলিকতাকে সীমাবদ্ধতা বলে অনেকে ধরে নিতে চান, তার ওপর মারাঠি ভাষা রাজনীতির আইডেন্টিটি পলিটিক্স তো আছেই। অথচ এই দ্বিভাষিকতাই আমাদের সাহায্য করে চিন্তার ব্যাসার্ধকে একটু বাড়াতে। তাছাড়া দ্বিভাষিকতার উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে ভারতীয় সাহিত্য, শিল্প ও অ্যাস্থেটিক্স চর্চায়। আশুতোষ যেটা আগেই বললেন, মারাঠি ভাষার বিভিন্ন ডায়ালেক্ট রয়েছে যেগুলি নিয়ে আমরা নিরন্তর কাজ করে চলেছি।
এতো গেলো একটা দিক। অপর দিকে অনুবাদ আমাদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। মারাঠি থেকে ইংরেজির অনুবাদ যেমন প্রয়োজন তেমনই ভারতের বাকি ভাষাগুলি থেকে মারাঠি অনুবাদও গুরুত্বপূর্ণ ? আমরা একটি সংখ্যায় গুজরাটি ও তামিল সাহিত্যের অনুবাদ প্রকাশ করেছি যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই ইংরেজি কাজ করেছে ইন্টারমিডিয়ারি ভাষা হিসেবে। 'হাকারা' তে প্রকাশিত সমস্ত লেখাই ইংরেজি এবং মারাঠিতে প্রকাশিত হয় না। আমরা লেখককে পূর্ণ স্বাধীনতা দেই তাঁর পছন্দের ভাষায় লিখতে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এক একটা লেখা এত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় যে তার অনুবাদ ছাপাতেও ভুলি না।
বরুণ : আমার মনে হয় ভাষা রাজনীতি সবসময় একটা গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করে চলেছে। সে যতই আপনি স্বপ্ন দেখুন, যতই হয়ে উঠুন প্রতিষ্ঠিত পন্থাকে নস্যাৎ করতে উদ্যোগী। আপনাদের ২০১৯ সংখ্যার বিষয় ছিল ' সীমারেখা ' যেখানে শিল্পী গিলার্মো গোমেজ পেনা ও গেব্রিয়েলা সালগাদোর একটি সাক্ষাৎকারের মারাঠি অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সম্ভবত সীমারেখা অতিক্রম করে ডেকে আনা সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। ' হাকারা' র জন্যে ভাষিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সীমারেখা কোনটি, যদি থাকে সেই সীমারেখা অতিক্রমের কোনো ইচ্ছে ?
আশুতোষ : সীমারেখা না বলে বরং বলি, আমাদের কাজ ফ্লুইডিটি নিয়ে। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় শিল্প- সাহিত্য বহুভাষিক, যেখানে এক ভাষা থেকে খুব সহজেই পৌঁছোনো যায় অপর ভাষায়। হ্যাঁ, বর্ডার যেমন আছে, তেমনই আরও অনেক কিছুই আছে। আপনি যদি মারাঠির মৌখিক উপস্থাপনের কথা ধরেন তাহলে তার ফিলোসফিক্যাল ডিসকোর্স কিন্তু ক্রিয়েটিভ বা ইমাজিনেটিভ ফর্মেও দেখানো যায়। আসলে আমি বলতে চাইছি it's just not about borders but also about locating something in between, an in- betweenness in the forms of expression! আমি কিন্তু বরাবরই বলে আসছি, আমাদের কাজটাই হলো একজন চর্চাকারী ও গবেষকের মাঝে সেতুবন্ধনের।
নূপূর : দেখুন, ইন্টারডিসিপ্লিনারিটি একটা বড়ো ব্যাপার। আমার খুব ভালো লাগছে যে আপনি গোমেজ পেনা ও সালগাদোর সাক্ষাৎকারটির কথা উল্লেখ করলেন। কাজটা করবার সময়ে কত যে আলোচনা হয়েছে অনুবাদকের সঙ্গে! এরকম নির্দিষ্ট সংস্কৃতির বিষয়কে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষা ও পরিবেশে উপস্থাপন করা নিঃসন্দেহে এক বড়ো চ্যালেঞ্জ। ঠিক এরকমই এক কঠিন পরিস্থিতি হয়েছিল অড্রে লর্ড ও জেমস বাল্ডউইনের একটি সাক্ষাৎকারের মারাঠি অনুবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে। তাঁদের বিষয়টি ছিল, ' Concerns of the intersection of race and the gendered histories of Black women and men. ' এখন ' Black ' শব্দের মারাঠি অনুবাদ কী হবে ? সরাসরি অনুবাদ করলে দাঁড়ায় কৃষ্ণবর্ণীয় কিন্তু অনুবাদকের মনে তখন খুঁতখুঁতে ভাব, ভাবছেন এত ডমিনেন্ট ফর্ম ব্যবহার করা ঠিক হবে? আবার মৌখিক ভাবে ' কালা ' শব্দটি খুবই প্রচলিত কিন্তু সেখানেও কোথায় একটা illegality উৎপন্ন হয়! এই নিয়ে আমাদের মধ্যে চলেছিল বিস্তর আলোচনা। পুরোনো মারাঠি বই- পত্তর ঘেঁটে পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। শেষমেশ চোখে পড়লো সাহিত্যিক শর্মিলা রেগের কৃষ্ণাঙ্গ ও দলিত আন্দোলন বিষয়ক লেখা। যেখানে তিনি ' Black Feminism ' কে ' kalaa streevaad ' বলে সম্বোধন করেছেন। তখন আমরাও ওই ' কালা ' তেই স্থিত হলাম। আমি বলতে চাইছি, এই যে লেখকদের সঙ্গে বলুন বা অনুবাদকদের সঙ্গে, ক্রমাগত যে আলোচনাগুলো চলে তা সবই কিন্তু গতানুগতিক সাহিত্য ও প্রকাশনার ধারা থেকে আলাদা।
বরুণ : হাকারা- র একটি সংখ্যা শুরু হয় কোথা থেকে? এই বিষয়ে আপনাদের অ্যাপ্রোচ নিয়ে যদি বলেন...
নূপূর : আমি বলি?
বরুণ : হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।
নূপূর : কোনো সংখ্যার কাজ শুরু করবার আগে আমাদের কাজ হলো নির্দিষ্ট একটি বিষয়কে বেছে নেওয়া। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিষয়গুলো হয়ে ওঠে আমাদের চারপাশে ঘটে চলা ঘটনা নিয়েই। যেমন, লকডাউনের সময়ে যে সংখ্যাটা প্রকাশ করেছিলাম তার বিষয় ছিল 'অনাসৃষ্টি '। তার পরেই 'ঘর' কে বেছেছিলাম বিষয় হিসেবে। এই সংখ্যাতে প্যানডেমিকের প্রকোপে কীভাবে বদলে চলেছে ঘরের চারপাশ তারই চমৎকার বর্ণনা করেছিলেন লেখক। এর মানে এই নয় যে সব সময় আমরা পারিপার্শিকতা নিয়েই বিচলিত। বিষয় বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ইতিহাস, শিল্প থেকে সাহিত্য যে কোনো কিছুই হতে পারে। আমার মনে হয় এভাবেই কনসেপ্টটা বড়ো আকার ধারন করতে পারবে যুক্ত হতে পারবেন বিভিন্ন পরিধির মানুষ। খোলামেলা ভাবেই যেমন লেখা আহ্বান করে থাকি, কিছু ক্ষেত্রে চেনা বন্ধুকেও বলি লেখবার কথা,কারণ আমরা জানি সে বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এখনো পর্যন্ত যা প্রকাশ করা গিয়েছে তার ফিডব্যাক খুবই ভালো। সারা দেশ থেকে তরুণ লিখিয়েরা তাঁদের লেখা পাঠাচ্ছেন। এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি? তার পরেও আমরা বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলি, নেই সাক্ষাৎকার, তবে তার সবই যে পত্রিকায় ছাপানো হবে এরকম বাধ্যবাধকতা যে আমাদের নেই, তা তাঁদেরকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়।
আশুতোষ : আমরা সব সময়ে ' আমার ' এবং ' আমাদের ' মাঝের অংশটাকে খুঁজে চলেছি। যখন ' আমি ' বলি তার অর্থ ব্যক্তিগত ভাবে আশুতোষ, লেখক, নাট্যকর্মী আশুতোষের কথআ বলছি। কিন্তু যে মূহুর্তে ' আমরা ' বলি বুঝতে হবে এক যৌথ উদ্যোগ ' হাকারা' র কথা।' হাকারা' সম্পূর্ণ ফ্রি তেই পড়া যায়। এর সঙ্গে কোনো রকম টাকাপয়সার যোগাযোগ নেই। যাঁরা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত তাঁরা কাজটিকে ভালোবেসেই করেন, নিজেদের গ্যাঁটের কড়ি খরচা করে। এখনো পর্যন্ত কোনো স্পনসর নেই, তার পরেও লেখকেরা নির্দ্বিধায় লেখা পাঠাচ্ছেন এটা জেনেই যে কোনো রকম সাম্মানিক তাঁরা পাবেন না।
বরুণ : শেষ প্রশ্ন, ' হাকারা' র মধ্যে সব চেয়ে এক্সাইটিং কোনটা? পত্রিকার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ এবং শিল্প- সাহিত্যের চর্চাকারী হিসেবে আপনাদের কোনো পরবর্তী প্ল্যান ?
নূপূর : দেখুন, যদি ভারতের মেইনস্ট্রিম পত্র- পত্রিকার কথা ধরেন শিল্প সমালোচনা বা শিল্প- ইতিহাস সংক্রান্ত লেখা যেমন আধুনিক শিল্পের বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ বা ভ্রমণ সাহিত্য, ছোটো গল্প সবই মোনোটোনাস বলে মনে হয়। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। কিন্তু যদি উনিশ শতক থেকে বিশ শতকের আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যকে দেখেন, বুঝতে পারবেন, তারা কিন্তু মেইনস্ট্রিম থেকে এখনো দূরে, তাদের ইংরেজি অনুবাদ তো অনেক দূরের বিষয়! এটাকেই মাথায় রেখে আমি আর আশুতোষ ১৯৪০-৬০ এর মধ্যবর্তী সময়ে মারাঠি ভাষায় লেখা শিল্প বিষয়ক প্রবন্ধের ইংরেজি তর্জমার কাজে হাত দিয়েছি। ' হাকারা' র মতোই, যেখানে ভাষার বিভিন্ন ফর্মকে অনুবাদের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
আশুতোষ : এই পত্রিকা যদি আমাকে কিছু দিয়ে থাকে তা নিঃসন্দেহে দেশের তরুণ লেখকদের লেখা ছাপবার প্ল্যাটফর্ম। আমারা আরও বেশি সংখ্যক লেখক ও পাঠকের কাছে পৌঁছোতে চাই কাজ করতে চাই আরও অনেক ভারতীয় ভাষা নিয়ে। এই মূহুর্তে একটি মারাঠি ছোটো গল্প সংকলনের ইংরেজি অনুবাদের কাজে ব্যস্ত রয়েছি। সঙ্গে নূপূর যেটির কথা বললেন, তা তো আছেই!
আশুতোষ : আমরা সব সময়ে ' আমার ' এবং ' আমাদের ' মাঝের অংশটাকে খুঁজে চলেছি। যখন ' আমি ' বলি তার অর্থ ব্যক্তিগত ভাবে আশুতোষ, লেখক, নাট্যকর্মী আশুতোষের কথআ বলছি। কিন্তু যে মূহুর্তে ' আমরা ' বলি বুঝতে হবে এক যৌথ উদ্যোগ ' হাকারা' র কথা।' হাকারা' সম্পূর্ণ ফ্রি তেই পড়া যায়। এর সঙ্গে কোনো রকম টাকাপয়সার যোগাযোগ নেই। যাঁরা পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত তাঁরা কাজটিকে ভালোবেসেই করেন, নিজেদের গ্যাঁটের কড়ি খরচা করে। এখনো পর্যন্ত কোনো স্পনসর নেই, তার পরেও লেখকেরা নির্দ্বিধায় লেখা পাঠাচ্ছেন এটা জেনেই যে কোনো রকম সাম্মানিক তাঁরা পাবেন না।
বরুণ : শেষ প্রশ্ন, ' হাকারা' র মধ্যে সব চেয়ে এক্সাইটিং কোনটা? পত্রিকার বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ এবং শিল্প- সাহিত্যের চর্চাকারী হিসেবে আপনাদের কোনো পরবর্তী প্ল্যান ?
নূপূর : দেখুন, যদি ভারতের মেইনস্ট্রিম পত্র- পত্রিকার কথা ধরেন শিল্প সমালোচনা বা শিল্প- ইতিহাস সংক্রান্ত লেখা যেমন আধুনিক শিল্পের বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ বা ভ্রমণ সাহিত্য, ছোটো গল্প সবই মোনোটোনাস বলে মনে হয়। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। কিন্তু যদি উনিশ শতক থেকে বিশ শতকের আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যকে দেখেন, বুঝতে পারবেন, তারা কিন্তু মেইনস্ট্রিম থেকে এখনো দূরে, তাদের ইংরেজি অনুবাদ তো অনেক দূরের বিষয়! এটাকেই মাথায় রেখে আমি আর আশুতোষ ১৯৪০-৬০ এর মধ্যবর্তী সময়ে মারাঠি ভাষায় লেখা শিল্প বিষয়ক প্রবন্ধের ইংরেজি তর্জমার কাজে হাত দিয়েছি। ' হাকারা' র মতোই, যেখানে ভাষার বিভিন্ন ফর্মকে অনুবাদের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
আশুতোষ : এই পত্রিকা যদি আমাকে কিছু দিয়ে থাকে তা নিঃসন্দেহে দেশের তরুণ লেখকদের লেখা ছাপবার প্ল্যাটফর্ম। আমারা আরও বেশি সংখ্যক লেখক ও পাঠকের কাছে পৌঁছোতে চাই কাজ করতে চাই আরও অনেক ভারতীয় ভাষা নিয়ে। এই মূহুর্তে একটি মারাঠি ছোটো গল্প সংকলনের ইংরেজি অনুবাদের কাজে ব্যস্ত রয়েছি। সঙ্গে নূপূর যেটির কথা বললেন, তা তো আছেই!
![]() |
| Ashutosh Potdar ( Editor ) |
![]() |
| Noopur Desai ( Co-editor ) |





Comments
Post a Comment