।। মেসির দেশে কনক্রিট আর্ট : আর্তুরো থেকে নুয়েভা ভিশন।।
সুশোভন রায়চৌধুরী
সাল ১৯৪৪। আর্হেন্তাইন ও উরুগুয়ান এক শিল্পীর দল প্রকাশ করলেন রিভিস্তা ' আর্তুরো ' যার আত্মপ্রকাশ সংখ্যার প্রচ্ছদে দেখা গেল তোমাস মালদোনাদোর তুলির টান। মাত্র একটি সংখ্যাই প্রকাশিত হয়েছে ' আর্তুরো ' র। কারমেলা আর্ডেন ক্যুইন, এডগার বেইলে ও গিউলা কোসিস সম্পাদিত আর্তুরোর সংখ্যাটিকে বর্তমানে আর্হেন্তাইন কনক্রিট আর্ট চর্চার প্রথম নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়। এই ' আর্তুরো' র পাতাতেই প্রকাশিত হয়েছিল রড রথফাসের বিশ্ববন্দিত প্রবন্ধ ' দ্য ফ্রেম : আ প্রবলেম অফ কনটেম্পোরারি আর্ট '। তিনি লিখছেন, ফ্রেম ও অর্থগোনাল পেইন্টিং হলো পিক্টোরিয়াল রিয়ালিজমের জীবাশ্ম মাত্র, বিমূর্ত শিল্পের ক্ষেত্রে যাকে পরিত্যাগ করলেও কোনো অসুবিধে থাকে না। এটি পড়বার পর, তখনকার শিল্পীরা তাঁদের ছবির আকারকে করে তোলেন কম্পোজিশন নির্ভর, আগের মতো ক্যানভাসের মাপ অনুযায়ী কম্পোজিশন ছেড়ে। এই ' কম্পোজিশন নির্ভর আকার' কে তাঁরা বলতে শুরু করেন ' Macro Recortado ' বা ' Cutout Frame '.
আর্তুরো বিখ্যাত হয়ে উঠেছে তার বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী স্লোগানের জন্যে। পত্রিকার আদর্শ ছিল ' INVENTION against AUTOMATISM ' ট্যাগলাইনে লেখা হয়েছে ' জার্নাল অফ দ্য অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর্টস '। এখানে ' আর্ট ' এর বহুবচন ' আর্টস ' এর ব্যবহার কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তাঁরা এটির মাধ্যমেই শিল্পীদের ইন্টারডিসিপ্লিনারি প্রতিষ্ঠানবিরোধিতাকে বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁরা তাঁদের 'কনক্রিট' ভাবনাকে শুধুমাত্র চারুশিল্পের মধ্যেই আবদ্ধ রাখেননি। শিল্প থেকে কবিতা, কবিতা থেকে থিয়েটার, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রায় প্রতিটি শাখাতেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের নবনির্মিত দর্শন। তাই ' আর্তুরো ' নিজেকে যতই বিমূর্ত শিল্পের কাগজ বলুক না কেন তাঁদের সাহিত্য চেতনা কোনো অংশে কম যায় না। ওই একটি মাত্র প্রকাশিত সংখ্যায় পাওয়া যাচ্ছে তেরোটি কবিতা যার মধ্যে তিনটি কবিতার লেখক সম্পাদক ত্রয়ী। চারুশিল্পী তোরেস গার্সিয়া, গিউলা কোসিস ও কারমেলা আর্ডেন ক্যুইন। ' ডাইভার্শান ' নামের তাঁর দীর্ঘ কবিতাটি ছাড়াও সম্পাদক তোরেস গার্সিয়াকে দেখা যায় ' সাহিত্যের ভবিষ্যত ' সম্পর্কিত একটি গদ্য লিখতে।
১৯৪৫ সালে বাহাউস- এর নামকরা চিত্রগ্রাহক শ্রীমতি গ্রেট স্টার্ন তাঁর বাড়িতে আয়োজন করলেন ' ইনভেনশনিস্ট ' দের নিয়ে এক ঘরোয়া আড্ডার। অনুষ্ঠানের দায় দায়িত্ব এসে পড়লো আর্তুরো- র তিন সম্পাদক ও গোষ্ঠীভুক্ত শিল্পী রড রথফাসের ঘাড়ে। ঘরোয়া আড্ডার প্রচারের জন্যে স্টার্ন ছাপালেন লিফলেট। ছাপা হলো কনক্রিট আর্টে উদ্বুদ্ধ শিল্পীদের শিল্প প্রদর্শনীর ছবি ও বিভিন্ন শিল্প বিষয়ক পত্রিকার প্রচ্ছদ। ছিল আর্হেন্তাইন গান - বাজনা বিষয়ক দু' চার লাইন কথাও। আড্ডার দিন ঘরের দেওয়ালের র্যাকে সাজানো হয়েছিল বিভিন্ন রিভিস্তার সংখ্যা, তবে এই সাজানো ছিল ইচ্ছাকৃত ভাবেই অগোছালো করে -- মানে গতানুগতিকতা থেকে একটু আলাদা দেখানোর প্রয়াস। লিফলেটে ছাপানো হয় শিল্পের বিভিন্ন জঁর সম্পর্কে ইনভেনশনিস্টরা কী মনে করেন, কী ভাবেই বা সংজ্ঞায়ীত করতে চান এক একটি মাধ্যম বিষয়ক সংক্ষিপ্ত কিছু লেখা। আর্হেন্তাইন শিল্প মহল তখন চাইছেন প্রতিটি জঁর- এর একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা যা হয়ে উঠবে একে অপরের থেকে স্বাধীন। সংজ্ঞার কিছু উদাহরণ দেখলে বিষয়টা বুঝতে সুবিধে হবে। ধরা যাক ' Pintura ' বা পেইন্টিং এর সংজ্ঞাকে। তাঁদের প্রস্তাবিত সংজ্ঞার ইংরেজি তর্জমা করলে দাঁড়ায়, " Compasses and ruler.Number and structure.Construction and order.The object of harmonic law." আবার নৃত্যকলা সম্পর্কে তাঁরা যা লিখছেন তার তর্জমা করলে দাঁড়াবে " Movements in Space. " এই ঘরোয়া আড্ডার ঠিক এক বছরের মাথায় তাঁরা আরও একটি লিফলেট প্রকাশ করেন, যাতে উঠে এসেছে পরিবর্ধিত বহু বিষয়।
সাল ১৯৪৬। কোসিস, রথফাস, আর্ডেন ক্যুইন এবং আরও বেশ কিছু শিল্পী যাঁরা মিলিত হয়েছিলেন স্টার্নের বাড়িতে, তৈরী করলেন এক নতুন গোষ্ঠী ' Madi '. প্রথম দিকে তাঁদের শিল্প প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশ করতেন ম্যাড়ম্যাড়ে কমা কোয়ালিটির কাগজে কিছু লিফলেট যা পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে আকার ধারন করে ' Arte Madi Universal ' নামের এক শিল্প বিষয়ক রিভিস্তার। এই পত্রিকার প্রকাশ বিন্যাসে তাঁরা প্রতি নিয়ত করে গিয়েছেন পরীক্ষা- নিরীক্ষা সে বিষয়বস্তু নিয়ে হোক, টাইপোগ্রাফিতে হোক অথবা প্রচ্ছদ নিয়ে। ১৯৪৬-৪৭ এর অন্তর্বর্তী সময়ে যে সমস্ত লিফলেট তাঁরা প্রকাশ করেছিলেন তার প্রায় প্রতিটিতেই নিজেদেরকে ' Cutout Frame ' শিল্প- ফর্মের আবিস্কর্তা হিসেবে দাবি করেছেন। কম দামি কাগজে ছাপবার ফলে এগুলি ইচ্ছে মতো রিপ্রিন্ট করা যেত, বিলোনো হতো রাস্তায় অথবা প্রদর্শনী কক্ষের বাইরে।
কোসিস ও আর্ডেন ক্যুইনের বন্ধু ' আর্তুরো ' র অন্যতম সম্পাদক এডগার বেইলি তাঁদের গোষ্ঠী ছাড়েন ১৯৪৫ এ। তিনি ও তাঁর ভাই ( আর্তুরো- র প্রচ্ছদ শিল্পী ) তোমাস মালদোনাদো গঠন করেন এক নতুন শিল্প সংগঠন ' Association Arte Concreto Invencion ' সংক্ষেপে AACI. ১৯৪৭ এ এসে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের মনে হলো ' কনক্রিট আর্ট ' এর কোনো ভবিষ্যত নেই তাই তাঁরা ফিরে গেলেন আর্হেন্তাইন শিল্পের ঐতিহ্যবাহী রেকট্যাঙ্গুলার ফরম্যাটে। AACI এর দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মালদোনাদো ও হ্লিটো শুরু করলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, টাইপোগ্রাফি ও স্থাপত্যশিল্পের কাজ। ফলে প্রকাশিত হলো ' Nueva Vision ' নামের এক মডার্নিস্ট রিভিস্তা। এই পত্রিকার বিষয় ছিলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডেকরেশন, ফার্নিশিং ও মডার্ন লাইফ স্টাইল। ফাইন আর্ট বলতে আমরা যা বুঝি তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল সংখ্যার বিজ্ঞাপনে। প্রকাশিত হয়েছে শিল্প সমালোচনাও। দেখা যাচ্ছে শিল্প সমালোচক হোর্হে রোমেরো ব্রেস্ট সমালোচনা লিখছেন ক্যানডিনস্কির আঁকা ছবির। হ্লিটোকে প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে ' কনক্রিট আর্ট ' বিষয়ক প্রবন্ধ। নুয়েভা ভিশন- এ এরকম কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে যার বিষয় শিল্পী ও স্থাপত্যবিদের মাঝে সম্পর্ক কিংবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনের সঙ্গে সম্পর্ক বিক্রির। এই পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে Group de Artistas Modernos de la Argentina বা আর্হেন্তিনার মডার্নিস্ট শিল্প গোষ্ঠীর প্রদর্শনীর সমালোচনা।
১৯৩০ সালে ডাচ শিল্পী থিও ভ্যান ডোয়েসবার্গ তৈরী করলেন শিল্পের এক নতুন পরিভাষা ' কনক্রিট আর্ট '। এর মাধ্যমে বোঝাতে চাইলেন এমন এক ফর্ম যা পুরোপুরি ভাবে বিমূর্ত নয়, তুলে ধরে অবজেক্টের মেটিরিয়ালিটিকে। ভ্যান ডোয়েসবার্গ ও কনস্ট্রাক্টিভিস্ট শিল্পী জোয়াকিম তোরেস গার্সিয়ার ছিলো তৎকালীন পাহৃর বিমূর্ত শিল্প ঘরানার শিল্পীদের সঙ্গে ওঠাবসা। ১৯৩০ এই ' আর্ট কনক্রিট ' নামের এক প্যামফ্লেটে প্রকাশিত হলো ডোয়েসবার্গের ' ম্যানিফেস্টো অফ কনক্রিট আর্ট ' নামের প্রবন্ধ। যেখানে তিনি এই নির্দিষ্ট শিল্প ফর্মের বিবরণে লিখলেন, " an art based on pure forms with no reference to external reality, and art that would be exact in technique, objective and universal. " দেখতে দেখতে কেটে গেল এক দশক। ১৯৪০ এর আর্হেন্তাইন শিল্পীরা মজলেন কনক্রিটিজমে। এই নির্দিষ্ট শিল্প ফর্মকে ব্যবহার করে প্রকাশ করতে থাকলেন তাঁদের রাজনৈতিক ও নন্দনতাত্ত্বিক ভাবনা। আর্হেন্তাইন শিল্পীদের কাছে কনক্রিট আর্ট এতটাই গ্রহণযোগ্য হলো, যে রীতিমতো ফর্মটি পর্যবশিত হলো আন্দোলনে, যাঁরা বিমূর্ততার যাবতীয় টেকনিক অগ্রাহ্য করে বলতে থাকলেন ' কনক্রিট ' এর ভাষা।
![]() |
| কনক্রিট আর্ট বিষয়ক প্রথম প্রকাশিত প্যামফ্লেট,১৯৩০ |
সাল ১৯৪৪। আর্হেন্তাইন ও উরুগুয়ান এক শিল্পীর দল প্রকাশ করলেন রিভিস্তা ' আর্তুরো ' যার আত্মপ্রকাশ সংখ্যার প্রচ্ছদে দেখা গেল তোমাস মালদোনাদোর তুলির টান। মাত্র একটি সংখ্যাই প্রকাশিত হয়েছে ' আর্তুরো ' র। কারমেলা আর্ডেন ক্যুইন, এডগার বেইলে ও গিউলা কোসিস সম্পাদিত আর্তুরোর সংখ্যাটিকে বর্তমানে আর্হেন্তাইন কনক্রিট আর্ট চর্চার প্রথম নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়। এই ' আর্তুরো' র পাতাতেই প্রকাশিত হয়েছিল রড রথফাসের বিশ্ববন্দিত প্রবন্ধ ' দ্য ফ্রেম : আ প্রবলেম অফ কনটেম্পোরারি আর্ট '। তিনি লিখছেন, ফ্রেম ও অর্থগোনাল পেইন্টিং হলো পিক্টোরিয়াল রিয়ালিজমের জীবাশ্ম মাত্র, বিমূর্ত শিল্পের ক্ষেত্রে যাকে পরিত্যাগ করলেও কোনো অসুবিধে থাকে না। এটি পড়বার পর, তখনকার শিল্পীরা তাঁদের ছবির আকারকে করে তোলেন কম্পোজিশন নির্ভর, আগের মতো ক্যানভাসের মাপ অনুযায়ী কম্পোজিশন ছেড়ে। এই ' কম্পোজিশন নির্ভর আকার' কে তাঁরা বলতে শুরু করেন ' Macro Recortado ' বা ' Cutout Frame '.
![]() |
| আর্তুরো- র প্রচ্ছদ। প্রকাশকাল ১৯৪৪, আর্হেন্তিনা। |
আর্তুরো বিখ্যাত হয়ে উঠেছে তার বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী স্লোগানের জন্যে। পত্রিকার আদর্শ ছিল ' INVENTION against AUTOMATISM ' ট্যাগলাইনে লেখা হয়েছে ' জার্নাল অফ দ্য অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর্টস '। এখানে ' আর্ট ' এর বহুবচন ' আর্টস ' এর ব্যবহার কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ কারণ তাঁরা এটির মাধ্যমেই শিল্পীদের ইন্টারডিসিপ্লিনারি প্রতিষ্ঠানবিরোধিতাকে বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁরা তাঁদের 'কনক্রিট' ভাবনাকে শুধুমাত্র চারুশিল্পের মধ্যেই আবদ্ধ রাখেননি। শিল্প থেকে কবিতা, কবিতা থেকে থিয়েটার, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রায় প্রতিটি শাখাতেই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের নবনির্মিত দর্শন। তাই ' আর্তুরো ' নিজেকে যতই বিমূর্ত শিল্পের কাগজ বলুক না কেন তাঁদের সাহিত্য চেতনা কোনো অংশে কম যায় না। ওই একটি মাত্র প্রকাশিত সংখ্যায় পাওয়া যাচ্ছে তেরোটি কবিতা যার মধ্যে তিনটি কবিতার লেখক সম্পাদক ত্রয়ী। চারুশিল্পী তোরেস গার্সিয়া, গিউলা কোসিস ও কারমেলা আর্ডেন ক্যুইন। ' ডাইভার্শান ' নামের তাঁর দীর্ঘ কবিতাটি ছাড়াও সম্পাদক তোরেস গার্সিয়াকে দেখা যায় ' সাহিত্যের ভবিষ্যত ' সম্পর্কিত একটি গদ্য লিখতে।
![]() |
| ১৯৪৫ সালে আয়োজিত কনক্রিট আর্ট -এর দ্বিতীয় প্রদর্শনীর লিফলেট |
১৯৪৫ সালে বাহাউস- এর নামকরা চিত্রগ্রাহক শ্রীমতি গ্রেট স্টার্ন তাঁর বাড়িতে আয়োজন করলেন ' ইনভেনশনিস্ট ' দের নিয়ে এক ঘরোয়া আড্ডার। অনুষ্ঠানের দায় দায়িত্ব এসে পড়লো আর্তুরো- র তিন সম্পাদক ও গোষ্ঠীভুক্ত শিল্পী রড রথফাসের ঘাড়ে। ঘরোয়া আড্ডার প্রচারের জন্যে স্টার্ন ছাপালেন লিফলেট। ছাপা হলো কনক্রিট আর্টে উদ্বুদ্ধ শিল্পীদের শিল্প প্রদর্শনীর ছবি ও বিভিন্ন শিল্প বিষয়ক পত্রিকার প্রচ্ছদ। ছিল আর্হেন্তাইন গান - বাজনা বিষয়ক দু' চার লাইন কথাও। আড্ডার দিন ঘরের দেওয়ালের র্যাকে সাজানো হয়েছিল বিভিন্ন রিভিস্তার সংখ্যা, তবে এই সাজানো ছিল ইচ্ছাকৃত ভাবেই অগোছালো করে -- মানে গতানুগতিকতা থেকে একটু আলাদা দেখানোর প্রয়াস। লিফলেটে ছাপানো হয় শিল্পের বিভিন্ন জঁর সম্পর্কে ইনভেনশনিস্টরা কী মনে করেন, কী ভাবেই বা সংজ্ঞায়ীত করতে চান এক একটি মাধ্যম বিষয়ক সংক্ষিপ্ত কিছু লেখা। আর্হেন্তাইন শিল্প মহল তখন চাইছেন প্রতিটি জঁর- এর একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা যা হয়ে উঠবে একে অপরের থেকে স্বাধীন। সংজ্ঞার কিছু উদাহরণ দেখলে বিষয়টা বুঝতে সুবিধে হবে। ধরা যাক ' Pintura ' বা পেইন্টিং এর সংজ্ঞাকে। তাঁদের প্রস্তাবিত সংজ্ঞার ইংরেজি তর্জমা করলে দাঁড়ায়, " Compasses and ruler.Number and structure.Construction and order.The object of harmonic law." আবার নৃত্যকলা সম্পর্কে তাঁরা যা লিখছেন তার তর্জমা করলে দাঁড়াবে " Movements in Space. " এই ঘরোয়া আড্ডার ঠিক এক বছরের মাথায় তাঁরা আরও একটি লিফলেট প্রকাশ করেন, যাতে উঠে এসেছে পরিবর্ধিত বহু বিষয়।
![]() |
| ইনভেনশনিস্টদের লিফলেট |
সাল ১৯৪৬। কোসিস, রথফাস, আর্ডেন ক্যুইন এবং আরও বেশ কিছু শিল্পী যাঁরা মিলিত হয়েছিলেন স্টার্নের বাড়িতে, তৈরী করলেন এক নতুন গোষ্ঠী ' Madi '. প্রথম দিকে তাঁদের শিল্প প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রকাশ করতেন ম্যাড়ম্যাড়ে কমা কোয়ালিটির কাগজে কিছু লিফলেট যা পরবর্তীতে অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে আকার ধারন করে ' Arte Madi Universal ' নামের এক শিল্প বিষয়ক রিভিস্তার। এই পত্রিকার প্রকাশ বিন্যাসে তাঁরা প্রতি নিয়ত করে গিয়েছেন পরীক্ষা- নিরীক্ষা সে বিষয়বস্তু নিয়ে হোক, টাইপোগ্রাফিতে হোক অথবা প্রচ্ছদ নিয়ে। ১৯৪৬-৪৭ এর অন্তর্বর্তী সময়ে যে সমস্ত লিফলেট তাঁরা প্রকাশ করেছিলেন তার প্রায় প্রতিটিতেই নিজেদেরকে ' Cutout Frame ' শিল্প- ফর্মের আবিস্কর্তা হিসেবে দাবি করেছেন। কম দামি কাগজে ছাপবার ফলে এগুলি ইচ্ছে মতো রিপ্রিন্ট করা যেত, বিলোনো হতো রাস্তায় অথবা প্রদর্শনী কক্ষের বাইরে।
কোসিস ও আর্ডেন ক্যুইনের বন্ধু ' আর্তুরো ' র অন্যতম সম্পাদক এডগার বেইলি তাঁদের গোষ্ঠী ছাড়েন ১৯৪৫ এ। তিনি ও তাঁর ভাই ( আর্তুরো- র প্রচ্ছদ শিল্পী ) তোমাস মালদোনাদো গঠন করেন এক নতুন শিল্প সংগঠন ' Association Arte Concreto Invencion ' সংক্ষেপে AACI. ১৯৪৭ এ এসে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের মনে হলো ' কনক্রিট আর্ট ' এর কোনো ভবিষ্যত নেই তাই তাঁরা ফিরে গেলেন আর্হেন্তাইন শিল্পের ঐতিহ্যবাহী রেকট্যাঙ্গুলার ফরম্যাটে। AACI এর দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মালদোনাদো ও হ্লিটো শুরু করলেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, টাইপোগ্রাফি ও স্থাপত্যশিল্পের কাজ। ফলে প্রকাশিত হলো ' Nueva Vision ' নামের এক মডার্নিস্ট রিভিস্তা। এই পত্রিকার বিষয় ছিলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডেকরেশন, ফার্নিশিং ও মডার্ন লাইফ স্টাইল। ফাইন আর্ট বলতে আমরা যা বুঝি তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল সংখ্যার বিজ্ঞাপনে। প্রকাশিত হয়েছে শিল্প সমালোচনাও। দেখা যাচ্ছে শিল্প সমালোচক হোর্হে রোমেরো ব্রেস্ট সমালোচনা লিখছেন ক্যানডিনস্কির আঁকা ছবির। হ্লিটোকে প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে ' কনক্রিট আর্ট ' বিষয়ক প্রবন্ধ। নুয়েভা ভিশন- এ এরকম কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে যার বিষয় শিল্পী ও স্থাপত্যবিদের মাঝে সম্পর্ক কিংবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনের সঙ্গে সম্পর্ক বিক্রির। এই পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে Group de Artistas Modernos de la Argentina বা আর্হেন্তিনার মডার্নিস্ট শিল্প গোষ্ঠীর প্রদর্শনীর সমালোচনা।








Comments
Post a Comment