।। কিছু অসংলগ্ন শব্দ যা অবিকল পাঠপ্রতিক্রিয়ার মতো লাগে ।।
সুশোভন রায়চৌধুরী
১.
বইমেলায় যাবো, লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে থাকবো অথচ সংখ্যা কিনবো না, এটা বোধহয় সত্যিই কষ্ট- কল্পনা হবে! অবশ্য আগের তুলনায় পত্রিকা কেনবার মাত্রা অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছি। সংগ্রাহক হতে চাইনি কখনো। যে বিষয় জানতে চাই, যে বিষয় আমার পছন্দের, বলা যেতে পারে যে বিষয় আমার জানা প্রয়োজন, সেগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছি আজকাল। ব্যতিক্রম যে একেবারেই হয় না তা নয়। যেমন ধরুন, চোখের সামনে কোনো লিটল ম্যাগাজিনের আত্মপ্রকাশ সংখ্যা পড়লো, ছাড়বার কোনো প্রশ্ন ওঠে কি ? এবারের মেলাতেও বেশ কয়েকটা আত্মপ্রকাশ সংখ্যার প্রাপ্তি ঘটেছে। পেয়েছি সুর্যেন্দু পাল সম্পাদিত ' কাটুস ' , অরূপ পন্ডিত সম্পাদিত ' ভাষাবদল ' ও আমন্ত্রিত সম্পাদক অর্কপল দত্তের সম্পাদনায় প্রেসিডেন্সির ছাত্র- ছাত্রীদের কাগজ ' সমন্বয় '। এছাড়া আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সংখ্যাও পেয়েছি। আপাতত আত্মপ্রকাশ সংখ্যার মাধ্যমেই, আলোচনা শুরু করা যাক ?
প্রথমেই আসি তারকেশ্বর লিটল ম্যাগাজিন মেলা ২০২১ উপলক্ষে প্রকাশিত, সুর্যেন্দু পাল সম্পাদিত ' কাটুস ' প্রসঙ্গে। সংখ্যার সম্পাদকীয়তেই তিনি উল্লেখ করেছেন, তারকেশ্বর মেলার দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁদের এই পত্রিকার আত্মপ্রকাশ, যা তাঁরা করেছেন মেলার মাঠে আসা কচিকাচাদের কথা মাথায় রেখেই। তাঁর প্রত্যয়, আগামীতে বড়োরা নয়, ছোটোরাই দখল নেবে ' কাটুস' এর পাতার। কবিতা, গদ্য ও ছড়ার সমাহারে এই বুড়ো বয়সেও যেন মনে হচ্ছে, ফিরে পেয়েছি আমার শৈশব। এরকম নিরেট, সোজা, সহজ- সরল লেখা যে কতদিন পড়িনি! তখন বোধহয় ক্লাশ নাইন অথবা টেন হবে, কবিতার মতো দেখতে কী সব লেখবার চেষ্টা করতাম আর তখন থেকেই হাড়ে হাড়ে বুঝি শিশু সাহিত্যের নির্মাণ কতটা কঠিন। শিশুর সারল্যে নিজেকে পৌঁছে নিয়ে যাওয়া একটা আর্ট যে কারণে কাটুসের সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন লেখক যেমন অরুন্ধতী চক্রবর্তী, অনিন্দিতা বিশ্বাস, সায়ন্তন সাউ, জ্যোতির্ময় মাইতি, ঋভু চৌধুরীদের এক একজন পাক্কা আর্টিস্ট বলেই মনে হয়। সংখ্যার প্রচ্ছদ ও অলংকরণে প্রসেনজিৎ বিদ ও অণির্বাণ পালের কাজও অসাধারণ। তাঁদের কাজে রয়েছে যুগোপযোগিতা, রয়েছে পরিমিতি। সংখ্যার ব্যাক কভারে প্রকাশিত এনাক্ষী পালের রঙিন ছবিটাও খুব সুন্দর, শিল্পীর সই দেখে মনে হলো তিনি ছোটোদেরই প্রতিনিধি, অবশ্য আমার ভুলও হতে পারে। সব চেয়ে মজা পেয়েছি সংখ্যার শেষ লেখা ' মশারা কেন গুণগুণ করে? ' পড়ে। যখন পড়ছিলাম, মনে হচ্ছিল, ওমা! যিনিই লিখুন না কেন চমৎকার লিখেছেন তো! কিন্তু যেই না চোখ পড়লো ব্যাক কভারে ছাপানো সম্পাদকীয় নোটে, দেখি এ যে অবাক কাণ্ড ! এটি নাকি চিনুয়া আচোবে- র ' Things fall apart ' থেকে অনুদিত, তবে এই অসাধারণ অনুবাদটা যে কার তার উল্লেখ কোথাও পেলুম না।
দেখে ভালো লাগলো, পত্রিকাটিতে কোনো মুদ্রিত মূল্য ধার্য করা নেই। ব্যাক কভারে লেখা " মূল্য - টাকা "। এ সিদ্ধান্ত সম্ভবত কচিকাচাদের কথা মাথায় রেখেই যা নি:সন্দেহে প্রসংশার দাবি রাখে।
এরপরেই যে সংখ্যার কথা বলবো সেটা পড়তে বেশি সময় লাগেনি। বইমেলা ফেরতা ইস্ট - ওয়েস্ট মেট্রো আর পূর্ব রেলের লোকাল প্যাসেঞ্জারের কম্পার্টমেন্টে বসেই যাবতীয় পাঠ। অরূপ পন্ডিত সম্পাদিত, ' ভাষাবদল ' এর আত্মপ্রকাশ সংখ্যা, এক ফর্মার অ্যাটম বোমা! কনটেন্ট হোক অথবা প্রকাশ বিন্যাস সবেতেই রয়েছে আভাঁ গার্দের ছাপ। শিশু সাহিত্যের রেশ না কাটতেই এমন এক চড়া সুরের চমক অপেক্ষা করছিলো তা ঘুণাক্ষরেও বুঝিনি!
" বুকে যতক্ষণ দম আছে
গাইব --- অত্যাচারীরা ফিরে যাও যাও যাও
লাল আকাশে আবার ওড়াব তোমাদের ইচ্ছার ছাইভস্ম
ফিরে যাও "
এটাই ছিল আত্মপ্রকাশ সংখ্যার প্রচ্ছদে ছাপা দ্বিতীয় স্তবক যার ঠিক নিচেই বড়ো মাপের ফন্টে লেখা -
" ভাষাবদল না হলে কি এক ভাষা অন্য ভাষার
পেটে হজম হয়ে যাবে?"
খুলতেই চমক! ছাপা হয়েছে ১৮৯১ সালের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রের ফ্যাক্সিমিলি। এটা সেই সময়ের কথা যখন একজন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন পেতে দেখাতে হতো ভাষা ( ইংরেজি, ল্যাটিন, গ্রীক, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, সংস্কৃত, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি, ওড়িয়া, আর্মেনীয়, বর্মি) গণিত, জ্যামিতি, ইতিহাস, সাধারণ ও প্রাকৃতিক ভূগোল এবং আঁকার মতো বিষয়ে পারদর্শিতা।
প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো, এই সংখ্যাতে আলাদা করে কোনো লেখকের লেখা প্রকাশিত হয়নি। ষোলো পাতা ব্যাপী রয়েছে ভাষা নিয়ে সম্পাদকের ব্যক্তিগত চিন্তার প্রতিফলন যেখানে তাঁর নিজের বক্তব্য খুবই পরিমিত, প্রকাশিত ছবির মাধ্যমেই বুঝে নিতে হবে সামগ্রিক বিষয়টাকে।
যেমন, প্রথমেই যে ফ্যাক্সিমিলিটার কথা বললুম, তার সম্পাদকীয় নোট / সারমর্ম বলতে এটুকুই ---
" কী দেখেছি?
একজন পরিক্ষার্থী কতটা নিজের ভাষা জানেন,
নির্ধারিত হবে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের দক্ষতা দিয়ে। "
" পরীক্ষার এই অংশে পরীক্ষার্থীর ভাষা দক্ষতা বুঝে নিতে চাওয়া হচ্ছে।
তার প্রথম ভাষার দক্ষতা। "
এই অতি ক্ষুদ্র পরিসরেই সম্পাদক তুলে ধরেছেন নানান বিষয়। যেমন, আরও একটি এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফ্যাক্সিমিলি তুলে ধরে প্রশ্ন করেছেন, ' খাসি ' বা ' পার্বতীয়া ' ভাষার কোনো লিপি নেই ফলে ইংরেজি হরফে লেখা প্রশ্নের অনুবাদ ছাত্রদের করতে হয়েছে, অথচ ' অসমীয়া ' র তো লিপি ছিল তাহলে সেটির ক্ষেত্রে এই একই পন্থা নেওয়া হয়েছিল কেন?
অরূপ পন্ডিত প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশ্ন পত্রের টেক্সট নিয়েও।
টেক্সট পড়ে সম্পাদকের বক্তব্য,
" পড়ে মনে হচ্ছে নীতিকথা
ঈশপের গল্প, বিদ্যাসাগরের কথামালা ?
' হিতোপদেশ ', ' বোধদয় '?
খোঁজা হলো, নেই "
যা থেকে তাঁর সোজা সাপটা বক্তব্য,
"... মোট ১৭ টি বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ পরীক্ষকরা করেছেন / জোগাড় করেছেন প্রশ্নপত্রটা সেট করতে গিয়ে। অনুবাদের কাজে এতটা শ্রম, সময় আর টাকা খরচা কেন? কোন উদ্দেশ্যে? "
১.
বইমেলায় যাবো, লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নে থাকবো অথচ সংখ্যা কিনবো না, এটা বোধহয় সত্যিই কষ্ট- কল্পনা হবে! অবশ্য আগের তুলনায় পত্রিকা কেনবার মাত্রা অনেকাংশেই কমিয়ে দিয়েছি। সংগ্রাহক হতে চাইনি কখনো। যে বিষয় জানতে চাই, যে বিষয় আমার পছন্দের, বলা যেতে পারে যে বিষয় আমার জানা প্রয়োজন, সেগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছি আজকাল। ব্যতিক্রম যে একেবারেই হয় না তা নয়। যেমন ধরুন, চোখের সামনে কোনো লিটল ম্যাগাজিনের আত্মপ্রকাশ সংখ্যা পড়লো, ছাড়বার কোনো প্রশ্ন ওঠে কি ? এবারের মেলাতেও বেশ কয়েকটা আত্মপ্রকাশ সংখ্যার প্রাপ্তি ঘটেছে। পেয়েছি সুর্যেন্দু পাল সম্পাদিত ' কাটুস ' , অরূপ পন্ডিত সম্পাদিত ' ভাষাবদল ' ও আমন্ত্রিত সম্পাদক অর্কপল দত্তের সম্পাদনায় প্রেসিডেন্সির ছাত্র- ছাত্রীদের কাগজ ' সমন্বয় '। এছাড়া আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সংখ্যাও পেয়েছি। আপাতত আত্মপ্রকাশ সংখ্যার মাধ্যমেই, আলোচনা শুরু করা যাক ?
প্রথমেই আসি তারকেশ্বর লিটল ম্যাগাজিন মেলা ২০২১ উপলক্ষে প্রকাশিত, সুর্যেন্দু পাল সম্পাদিত ' কাটুস ' প্রসঙ্গে। সংখ্যার সম্পাদকীয়তেই তিনি উল্লেখ করেছেন, তারকেশ্বর মেলার দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁদের এই পত্রিকার আত্মপ্রকাশ, যা তাঁরা করেছেন মেলার মাঠে আসা কচিকাচাদের কথা মাথায় রেখেই। তাঁর প্রত্যয়, আগামীতে বড়োরা নয়, ছোটোরাই দখল নেবে ' কাটুস' এর পাতার। কবিতা, গদ্য ও ছড়ার সমাহারে এই বুড়ো বয়সেও যেন মনে হচ্ছে, ফিরে পেয়েছি আমার শৈশব। এরকম নিরেট, সোজা, সহজ- সরল লেখা যে কতদিন পড়িনি! তখন বোধহয় ক্লাশ নাইন অথবা টেন হবে, কবিতার মতো দেখতে কী সব লেখবার চেষ্টা করতাম আর তখন থেকেই হাড়ে হাড়ে বুঝি শিশু সাহিত্যের নির্মাণ কতটা কঠিন। শিশুর সারল্যে নিজেকে পৌঁছে নিয়ে যাওয়া একটা আর্ট যে কারণে কাটুসের সম্পাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন লেখক যেমন অরুন্ধতী চক্রবর্তী, অনিন্দিতা বিশ্বাস, সায়ন্তন সাউ, জ্যোতির্ময় মাইতি, ঋভু চৌধুরীদের এক একজন পাক্কা আর্টিস্ট বলেই মনে হয়। সংখ্যার প্রচ্ছদ ও অলংকরণে প্রসেনজিৎ বিদ ও অণির্বাণ পালের কাজও অসাধারণ। তাঁদের কাজে রয়েছে যুগোপযোগিতা, রয়েছে পরিমিতি। সংখ্যার ব্যাক কভারে প্রকাশিত এনাক্ষী পালের রঙিন ছবিটাও খুব সুন্দর, শিল্পীর সই দেখে মনে হলো তিনি ছোটোদেরই প্রতিনিধি, অবশ্য আমার ভুলও হতে পারে। সব চেয়ে মজা পেয়েছি সংখ্যার শেষ লেখা ' মশারা কেন গুণগুণ করে? ' পড়ে। যখন পড়ছিলাম, মনে হচ্ছিল, ওমা! যিনিই লিখুন না কেন চমৎকার লিখেছেন তো! কিন্তু যেই না চোখ পড়লো ব্যাক কভারে ছাপানো সম্পাদকীয় নোটে, দেখি এ যে অবাক কাণ্ড ! এটি নাকি চিনুয়া আচোবে- র ' Things fall apart ' থেকে অনুদিত, তবে এই অসাধারণ অনুবাদটা যে কার তার উল্লেখ কোথাও পেলুম না।
দেখে ভালো লাগলো, পত্রিকাটিতে কোনো মুদ্রিত মূল্য ধার্য করা নেই। ব্যাক কভারে লেখা " মূল্য - টাকা "। এ সিদ্ধান্ত সম্ভবত কচিকাচাদের কথা মাথায় রেখেই যা নি:সন্দেহে প্রসংশার দাবি রাখে।
এরপরেই যে সংখ্যার কথা বলবো সেটা পড়তে বেশি সময় লাগেনি। বইমেলা ফেরতা ইস্ট - ওয়েস্ট মেট্রো আর পূর্ব রেলের লোকাল প্যাসেঞ্জারের কম্পার্টমেন্টে বসেই যাবতীয় পাঠ। অরূপ পন্ডিত সম্পাদিত, ' ভাষাবদল ' এর আত্মপ্রকাশ সংখ্যা, এক ফর্মার অ্যাটম বোমা! কনটেন্ট হোক অথবা প্রকাশ বিন্যাস সবেতেই রয়েছে আভাঁ গার্দের ছাপ। শিশু সাহিত্যের রেশ না কাটতেই এমন এক চড়া সুরের চমক অপেক্ষা করছিলো তা ঘুণাক্ষরেও বুঝিনি!
" বুকে যতক্ষণ দম আছে
গাইব --- অত্যাচারীরা ফিরে যাও যাও যাও
লাল আকাশে আবার ওড়াব তোমাদের ইচ্ছার ছাইভস্ম
ফিরে যাও "
এটাই ছিল আত্মপ্রকাশ সংখ্যার প্রচ্ছদে ছাপা দ্বিতীয় স্তবক যার ঠিক নিচেই বড়ো মাপের ফন্টে লেখা -
" ভাষাবদল না হলে কি এক ভাষা অন্য ভাষার
পেটে হজম হয়ে যাবে?"
খুলতেই চমক! ছাপা হয়েছে ১৮৯১ সালের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রের ফ্যাক্সিমিলি। এটা সেই সময়ের কথা যখন একজন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন পেতে দেখাতে হতো ভাষা ( ইংরেজি, ল্যাটিন, গ্রীক, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, সংস্কৃত, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি, ওড়িয়া, আর্মেনীয়, বর্মি) গণিত, জ্যামিতি, ইতিহাস, সাধারণ ও প্রাকৃতিক ভূগোল এবং আঁকার মতো বিষয়ে পারদর্শিতা।
প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভালো, এই সংখ্যাতে আলাদা করে কোনো লেখকের লেখা প্রকাশিত হয়নি। ষোলো পাতা ব্যাপী রয়েছে ভাষা নিয়ে সম্পাদকের ব্যক্তিগত চিন্তার প্রতিফলন যেখানে তাঁর নিজের বক্তব্য খুবই পরিমিত, প্রকাশিত ছবির মাধ্যমেই বুঝে নিতে হবে সামগ্রিক বিষয়টাকে।
যেমন, প্রথমেই যে ফ্যাক্সিমিলিটার কথা বললুম, তার সম্পাদকীয় নোট / সারমর্ম বলতে এটুকুই ---
" কী দেখেছি?
একজন পরিক্ষার্থী কতটা নিজের ভাষা জানেন,
নির্ধারিত হবে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের দক্ষতা দিয়ে। "
যার ঠিক নিচেই, বড়ো ফন্টে লেখা ---
" পরীক্ষার এই অংশে পরীক্ষার্থীর ভাষা দক্ষতা বুঝে নিতে চাওয়া হচ্ছে।
তার প্রথম ভাষার দক্ষতা। "
এই অতি ক্ষুদ্র পরিসরেই সম্পাদক তুলে ধরেছেন নানান বিষয়। যেমন, আরও একটি এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফ্যাক্সিমিলি তুলে ধরে প্রশ্ন করেছেন, ' খাসি ' বা ' পার্বতীয়া ' ভাষার কোনো লিপি নেই ফলে ইংরেজি হরফে লেখা প্রশ্নের অনুবাদ ছাত্রদের করতে হয়েছে, অথচ ' অসমীয়া ' র তো লিপি ছিল তাহলে সেটির ক্ষেত্রে এই একই পন্থা নেওয়া হয়েছিল কেন?
অরূপ পন্ডিত প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশ্ন পত্রের টেক্সট নিয়েও।
টেক্সট পড়ে সম্পাদকের বক্তব্য,
" পড়ে মনে হচ্ছে নীতিকথা
ঈশপের গল্প, বিদ্যাসাগরের কথামালা ?
' হিতোপদেশ ', ' বোধদয় '?
খোঁজা হলো, নেই "
যা থেকে তাঁর সোজা সাপটা বক্তব্য,
"... মোট ১৭ টি বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ পরীক্ষকরা করেছেন / জোগাড় করেছেন প্রশ্নপত্রটা সেট করতে গিয়ে। অনুবাদের কাজে এতটা শ্রম, সময় আর টাকা খরচা কেন? কোন উদ্দেশ্যে? "
এর পর পেলুম, ' সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার কেন্দ্র লন্ডনের পাশাপাশি হওয়ার কথা ছিল ভারতেও ( ১৮৯৩) কিন্তু পিছিয়ে যায় ৩০ বছর ( ১৯২২) ' শিরোনামে এক প্রতিবেদন যার জন্যে প্রায় একশো বছর আগে প্রকাশিত এক তামিল গ্রন্থকে ফিরে দেখিয়েছেন তিনি। রয়েছে ক্যালকাটা ক্যাম্পারেটিস্ট, ১৯১৯ -এর সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক মৃন্ময় প্রামাণিক- এর টোটো ভাষা নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার যার মধ্যমে অরূপ বাবু দেখাতে চেয়েছেন, " ভারতবর্ষের সমস্ত ভাষা সমস্বীকৃতি নিয়ে বাঁচবে, এই তো স্বপ্ন "। পত্রিকার শেষ লেখার শিরোনাম, ' মার্কেট বেলা চাও গাইছে ' যা পড়ে পাঠক হিসেবে, সম্পাদকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শটা বুঝতে অসুবিধে হয়নি।
মাত্র কুড়ি টাকা দামের এই এক ফর্মার ভাষাবদল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, ইচ্ছে করলে কোনো লেখকের সাহায্য ছাড়াই প্রকাশিত হতে পারে লিটল ম্যাগাজিন কিন্তু সেটা করতে গেলে চাই মেধা, চাই চর্চা, চাই রুচি ও অব্যর্থ পরিমিতিবোধ।
ক্রমশ...
মাত্র কুড়ি টাকা দামের এই এক ফর্মার ভাষাবদল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, ইচ্ছে করলে কোনো লেখকের সাহায্য ছাড়াই প্রকাশিত হতে পারে লিটল ম্যাগাজিন কিন্তু সেটা করতে গেলে চাই মেধা, চাই চর্চা, চাই রুচি ও অব্যর্থ পরিমিতিবোধ।
ক্রমশ...





খুব ভালো হচ্ছে
ReplyDeleteথ্যাঙ্ক ইউ দাদা।
Delete